৬ উইকেট শরিফুলের
অজিদের চাপে রেখে লড়াইয়ে ফিরল বাংলাদেশ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি বুঝি একতরফাই হতে যাচ্ছে। মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার হাতে চলে গিয়েছিল পুরো নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু দিনের শেষ সেশনে বদলে গেল দৃশ্যপট। আগুনঝরা বোলিংয়ে একে একে ছয় অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারকে ফিরিয়ে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনলেন শরিফুল ইসলাম। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। ১০১ রানে এগিয়ে থাকলেও স্বস্তিতে দিন শেষ করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টেস্ট অভিষেকের প্রথম দিনেই দেখা গেল ১৮ উইকেটের পতন। তাজা ঘাসে ভরা উইকেটে ছিল বাড়তি বাউন্স ও মুভমেন্ট। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সেই কন্ডিশনের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৩৪ ওভারেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
দিনের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে শুরু করেন স্টার্ক। এরপর একের পর এক ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠাতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার। বাংলাদেশের প্রথম ছয় ব্যাটারের চারজনই ফেরেন শূন্য রানে। তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস কোনো রান করতে পারেননি। মুমিনুল হক করেন ৯, আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।
স্টার্কের তাণ্ডবে একসময় ৬ উইকেটে বাংলাদেশের রান ছিল মাত্র ২১। টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের সর্বনি¤œ স্কোরের শঙ্কাও তখন চোখ রাঙাচ্ছিল। মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুশফিকের ছোট ছোট প্রতিরোধও বেশিক্ষণ টেকেনি। শেষ পর্যন্ত ৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। স্টার্ক মাত্র ২২ বলেই তুলে নেন ৫ উইকেট। তার প্রথম স্পেলের বোলিং ছিল অবিশ্বাস্য- ৬ ওভারে ৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট। পরে আরো এক উইকেট নিয়ে ১২ রানে ৬ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় সেরা বোলিং।
তবে বাংলাদেশের ইনিংসের শেষদিকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন শরিফুল ইসলাম। ১১ নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন এই বাঁহাতি পেসার। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তার ২৫ রানের শেষ জুটি বাংলাদেশকে অন্তত ৬৪ পর্যন্ত নিয়ে যায়। সেই ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে যে তিনি অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দেবেন, তখন কে-ই বা ভেবেছিল!
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেও শুরুটা খুব স্বস্তির ছিল না। তাসকিন আহমেদের বলে সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে ফেরা ম্যাট রেনশ ফেরেন ৮ রানে। এরপর ট্রাভিস হেডকে থামিয়ে দেন শরিফুল। নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই হেডকে বোল্ড করেন তিনি। ওই ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বাড়ান শরিফুল।
তবে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। দুজন মিলে ৭৭ রানের জুটি গড়ে দলকে বাংলাদেশের স্কোর ছাড়িয়ে দেন। অস্ট্রেলিয়ার লিড যখন একশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তখন ফের ত্রাতা হয়ে আসেন শরিফুল। ৪২ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে ভাঙেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর মাত্র ৩০ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া হারায় ৫ উইকেট। অ্যালেক্স কেয়ারিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরানোর পর শরিফুলের ঝড় আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রথমে বাউ ওয়েবস্টারকে এলবিডব্লিউ, পরের বলে প্যাট কামিন্সকে বাউন্সারে ক্যাচ এবং এরপর মিচেল স্টার্ককে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের প্রথমবার এক ইনিংসে পাঁচ উইকেটের বেশি নেয়ার পথে শরিফুল শেষ পর্যন্ত ১১ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন। ১৩ টেস্টে এর আগে ইনিংসে তার সর্বোচ্চ শিকার ছিল তিন উইকেট। এক দিনেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ১৬৫। ক্যামেরন গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত, সঙ্গে ১০ রানে আছেন নাথান লায়ন। অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ১০১ রানে। ব্যবধানটা বড় হলেও শরিফুলের আগুনে বোলিং বাংলাদেশকে ফের ম্যাচের আলোচনায় ফিরিয়েছে। প্রথম দিনের ব্যাটিং-বিভীষিকার পর এখন বাংলাদেশের সামনে একটাই লক্ষ্য- দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলা।
