রংপুরে চার খুনের রহস্য উদ্ঘাটন, আটক ২
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্যও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। আটক দুজন হলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ওই বাড়িতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। ঘটনার আগে তারা বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী গলায় গামছা ও খালি গায়ে সেখানে যান। এ সময় ওই গামছা ব্যবহার করেই তাকে হত্যা করা হয়। শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে তাকেও সিঁড়িতে হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায় নিতে হবে
পরে শব্দ শুনে দম্পতির মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ঘর থেকে বেরিয়ে এলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একমাত্র ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী যাতে হত্যাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করতে না পারে, সে আশঙ্কায় তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এর আগে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। পুলিশের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তাদের একজন পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১২)।
পুলিশ জানায়, কয়েক দিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবারের পর থেকে পরিবারের কাউকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার রাতে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: রংপুরে চার খুন: সন্দেহের তীর যাদের দিকে
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদ থেকে, স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির পাশের চিলেকোঠা এলাকা থেকে এবং ছেলে আয়ুশের মরদেহ খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। শনিবার ফোনে কাউকে না পেয়ে তিনি স্বামীকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন।
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। এরপর রংপুর সমবায় মার্কেটে হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ছেলে আয়ুশ রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
