পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কেন দুই প্রতিমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পাশাপাশি এখন দায়িত্ব পালন করবেন দুজন প্রতিমন্ত্রী। তারা হলেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের পর হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এর ফলে একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুজনে।
কেন একই মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী
একটি মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের ব্যাপকতা বিবেচনায় দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বহুপক্ষীয় কূটনীতি, জাতিসংঘ, আঞ্চলিক সহযোগিতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সীমান্ত, রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সামলাতে হয়।
আরও পড়ুন: বঙ্গভবনে প্রবেশ করলেন রাষ্ট্রপতি, দেয়া হলো গার্ড অব অনার
এ কারণে দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। একজন নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ও রাজনৈতিক বিষয় দেখার পাশাপাশি অন্যজন বহুপক্ষীয় কূটনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা বা বিশেষ কৌশলগত ইস্যুতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে কোন প্রতিমন্ত্রী কোন বিষয় দেখবেন, তা প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব বণ্টনের পর স্পষ্ট হবে।
সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
আইনে কি একাধিক প্রতিমন্ত্রীর বাধা আছে?
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগের বিধান রয়েছে। তবে একটি মন্ত্রণালয়ে কতজন প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে সংবিধানে নির্দিষ্ট কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, একই মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করলে আইনি কোনো জটিলতা তৈরি হয় না।
শামা ওবায়েদ ও হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব
শামা ওবায়েদ ইসলাম বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
আরও পড়ুন: নতুন দায়িত্ব পেলেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ
অন্যদিকে হুমায়ুন কবির এতদিন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করেছেন।
নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে তাঁর আগের কূটনৈতিক ভূমিকা এবার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এলো।
সামনে বাড়ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাপ
বাংলাদেশের সামনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, সীমান্ত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন এবং জাতিসংঘকেন্দ্রিক কূটনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সামনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রতিমন্ত্রী থাকলেও কার্যকর ফল পেতে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন, পারস্পরিক সমন্বয় এবং সরকারের অভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হবে।
