রংপুরে চার খুন: সন্দেহের তীর যাদের দিকে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় কয়েক যুবকের দিকে সন্দেহের তীর ঘুরছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের দাবি, ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢুকে তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয় দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত মাছুয়াপাড়া এলাকার দুই যুবককে আটকের তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এলাকায় অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আটক করা হয়।
সূত্রের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে তাদের একজন পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে ওই এলাকার পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির ভেতরে মাদক সেবনের কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলেও একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: মহাসড়ক নয় যেন মৃত্যুফাঁদ, প্রাণ গেল ১৯ জনের
এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দোতলা বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়িতে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। একই সঙ্গে আসবাবপত্র ও টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙচুর করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলে প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার
ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক সংস্থা কাজ করছে। কেউ আটক হয়ে থাকলেও সেটি তদন্তের অংশ হতে পারে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাড়ির অবস্থা দেখে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশ দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশা প্রকাশ করেছে।
