হামে প্রাণহানি ৯৬০, ডেঙ্গুর শিকার ৮৮
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
গেল ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৯৬০ জনে। আর এই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। এডিস মশাবাহিত এই জ¦রে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি ঘটেছে ৮৮ জনের। গতকাল শুক্রবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে; হামে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। মৃত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন ঢাকা, ২ জন সিলেট বিভাগের। গেল ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১০০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৬ জন। ৭০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ভর্তি রোগীর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ২৪৯, রাজশাহীতে ২৯, সিলেটে ১২৮, চট্টগ্রামে ২৭১, বরিশালে ১২৬, ময়মনসিংহে ৬১, খুলনায় ৫৫ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৬০টি শিশু মারা গেছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৪, বরিশালে ৫১, ময়মনসিংহে ৭৪, খুলনায় ৩৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনের শরীরে। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৯৬। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
আরও পড়ুন: মা ও শিশুর পুষ্টি সুরক্ষায় এখনই প্রয়োজন সহজবোধ্য খাদ্য লেবেল
এদিকে কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪২ জন রোগী। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ৭২ জন। আর ৪৩ জন ভর্তি হন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। বিভাগের মধ্যে বরিশালে ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ৯৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন এবং রংপুরে ২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ৩৪৫ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ২ হাজার ২৬৮ জন ডেঙ্গুরোগী।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে ৮৮ জনের প্রাণ কেড়েছে। যার মধ্যে আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৩২ হাজার ৫৯০ জন ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩০ হাজার ৪২২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
