যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আশুরা পালিত
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। গত শুক্রবার আশুরা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কুরআন-খতম, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে বাসকারী শিয়া স¤প্রদায় দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে পালন করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল, শোকসভা ও ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করেছে তারা।
শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শিয়া স¤প্রদায়ের হাজারো মানুষ খালি পায়ে, বুক চাপড়ে তাজিয়া মিছিলে অংশ নেন। বুকের ওপর ডান হাত রেখে তারা মাতম করে বলছিলেন, ‘ইয়া হোসাইন, ইয়া হোসাইন’। শোকের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তাদের পরনে ছিল কালো পোশাক।
অনেকের হাতে ছিল নিশান, আলম, দুলদুল ঘোড়া, পাঞ্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক। হাজারো মানুষের মাতমে তৈরি হয়েছিল শোকের আবহ।
মিছিলটি হোসেনি দালানের উত্তর গেট দিয়ে বের হয়ে বকশীবাজার লেন, এতিমখানা মোড়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি লেকে যায়। সেখানে প্রতীকী তাজিয়া বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি।
হোসেনি দালান ছাড়াও ঢাকায় আরো প্রায় ৩০টি ছোট-বড় ইমামবাড়া রয়েছে। মহররম উপলক্ষে তাদেরও নিজস্ব কর্মসূচি ছিল। এর মধ্যে বড় কাটারা ইমামবাড়া, মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদসংলগ্ন ইমামবাড়া, পুরানা পল্টন ইমামবাড়া ও মগবাজার ইমামবাড়ার মতো বড় ইমামবাড়াগুলো আলাদা তাজিয়া মিছিল ও মজলিশের আয়োজন করে।
ডিএমপি কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া থেকে মহররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল হয়েছে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা হয়। নির্বিঘেœ মিছিল সম্পন্ন করতে সারাদেশেই ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক উপস্থিতি। পাশাপাশি দেশের প্রধান ইমামবাড়াগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নজরদারি করা হয়।
হিজরি মহররম মাসের ১০ম দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক এই দিনটি মূলত ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.)-কে সপরিবারে শাহাদতবরণের শোকাবহ স্মৃতির কারণে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে চিরন্তন ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। কারবালার এই ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
ইসলামী ইতিহাসের তথ্যমতে, মহান আল্লাহ এই ১০ মুহাররমের দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি এবং পরে তার তাওবা কবুল করা হয়। এ ছাড়া হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনের পর কিস্তি জুদি পাহাড়ে ভেড়া এবং হজরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি পাওয়ার মতো মহান সব ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র দিন।
