বায়ুদূষণ শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বর্তমান বিশ্বে বায়ুদূষণ বৃহত্তম পরিবেশগত স্বাস্থ্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ৩৯তম অবস্থানে ছিল ঢাকা। আর বায়ু মান সূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ৬৫। সংস্থার তথ্য বলছে, গতকাল দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। বায়ুমান সূচকে জাকার্তার স্কোর ছিল ১৬৮। ওই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল পাকিস্তানের শহর লাহোর, যার স্কোর ১৬৪। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা ১৫২ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে, চতুর্থ স্থানে থাকা ব্রাজিলের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাও পাওলোর স্কোর ছিল ১৫০। ১৪৩ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক রাজধানী জোহানেসবার্গ।
বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং সতর্ক করে। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর মানে বাতাস ভালো, ৫১ থেকে ১০০ স্কোরে বাতাস মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর বাতাসকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেয়া হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে তা অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি ধরনকে ভিত্তি করে। যেমন- বস্তুকণা (পিএম ১০ ও পিএম ২ দশমিক ৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে থাকে। ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো পিএম ২ দশমিক ৫-এর উপস্থিতি। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত দৈনিক নির্দেশিকা মানের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি।
২০২১ সালের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশে বাতাসের প্রতি ঘনমিটারে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৭৬ দশমিক ৯। এর মাত্রা ১০-এর নিচে হলে তা ক্ষতিকর নয় বলে বিবেচনা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৪টি জেলারই বায়ুর মান আদর্শ মাত্রার চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণ কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ঢাকার বায়ুমান ক্রমাগত নিম্নমুখী হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য এই বাতাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। চিকিৎসকরা বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
