ষোলশহরে গুলিতে যুবক খুন, সন্দেহে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপ
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ফরেস্ট গেইট এলাকায় শেখ মো. আজাদ (৩০) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১ জুলাই) বিকালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আজাদ পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার মওলানা আব্দুল হাকিম শাহ হুজুরের বাড়ির বাসিন্দা মো. রশীদের ছেলে। তিনি একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ইসহাক আলম নামে এক যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজাদকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। চিকিৎসক পরীক্ষার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। ইসহাক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের জানান, ফরেস্ট গেটের সামনে রাস্তার পাশে হাঁটার সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত লোক গুলি করে তাকে খুন করেছে।
ইসহাকের কথাবার্তা অসংলগ্ন ও সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানান সিএমপি’র সংশ্লিষ্ট জোনের উপকমিশনার মোহাম্মদ হাসান মোস্তফা স্বপন। তিনি বলেন, ‘ইসহাক গুলিবিদ্ধ যুবককে হাসপাতালে নেয়ার পরেই এ ঘটনার কথা আমরা জানতে পারি। এরপর আমরা ইসহাককে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি। ঘটনাস্থল মানে, ফরেস্ট গেটের ভেতরে একটি ছোট্ট বাসার মতো কক্ষ। সেখানেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এটা আজাদ বা ইসহাক কারও বাসা নয়।
নিহতের ভাই মো. সাজ্জাদ অভিযোগ করেন, দুপুর ১টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন আজাদ। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তাকে স্থানীয় গুল্লি বাবু নামে এক ব্যক্তি কাজের কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যান। তিনি বলেন, পরে গুল্লি বাবুই ফোন করে জানান, আজাদকে সামারহিল এলাকায় গুলি করা হয়েছে এবং তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি, আমার ভাইয়ের বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় মামলা করব এবং হত্যাকারীদের বিচার চাই। নিহতের এক বন্ধু দাবি করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গুল্লি বাবু সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত এবং কৌশলে আজাদকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক (সেকেন্ড অফিসার) নুরুল আফসার বলেন, গুল্লি বাবু ও নিহত আজাদ সম্পর্কে মামা-ভাগিনা। ঘটনার সময় তারা হৃদয় নামে আরো এক ব্যক্তিকে নিয়ে একটি কক্ষে ছিলেন এবং সেখানে তারা মাদক সেবনের জন্য গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলটি এককক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর, সেখান থেকে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। কে বা কারা গুলি করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আজাদকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানান। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
