গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট, ৩৮ জেলায়ই নেই আইসিইউ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) সেবার সংকট। বর্তমানে দেশে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭টি এবং সাধারণ হাসপাতাল বেড রয়েছে মাত্র ৯টি। ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলায় কোনো ধরনের আইসিইউ নেই। এছাড়া দেশের মোট আইসিইউ বেডের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমাদের দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। কিন্তু আইসিইউ সেবাগুলো মূলত বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীভূত। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা মা, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বয়োবৃদ্ধ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে শুধু শয্যার অভাবই নয়, রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (যেমন- অ্যানাস্থেটিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, নিউরোলজিস্ট), দক্ষ নার্স ও বিশেষায়িত সরঞ্জামের তীব্র সংকট। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও সংকল্প নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, গুরুতর রোগীদের জন্য দূরত্ব ও যানবাহন একটি বড় অন্তরায়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাৎক্ষণিক আইসিইউ সেবা দেয়া সম্ভব না হলেও, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে আনা সম্ভব। তাই প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট নিশ্চিত করা জরুরি।
সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেশের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাব থাকা সত্ত্বেও আমাদের চিকিৎসক ভাই-বোনেরা দিনরাত পরিশ্রম করে রোগীদের সুস্থ করে তুলছেন এবং অনেক পরিবারের আশার আলো বাঁচিয়ে রাখছেন। একটি মৃত্যু যেন কোনো পরিবারকে সর্বশান্ত না করে, সে জন্য আগামীতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যা সেবার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন ডা. জুবাইদা রহমান।
দেশে চিকিৎসকদের অপচিকিৎসা কিংবা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ প্রায়ই গণমাধ্যমে আসে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আদ-দীন হাসপাতালের ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আবারো আলোচনায় আসে চিকিৎসায় ডাক্তারদের অবহেলার বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসারা দায়িত্বশীল না হলে সরকার স্বাস্থ্য খাতে হাজার কোটি দিলেও লাভ হবে না।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহর কেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বিএনপি জনগণের কথা বিবেচনা করে বলেই বাজেটে রেকর্ড বরাদ্দ দিয়েছে।
