হামে মৃত্যু প্রায় সাড়ে সাতশ’, ডেঙ্গুরোগী ৭ হাজারের বেশি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি বছর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭ হাজার। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, বছরজুড়ে অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে এনএস-১ পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত রবিবার মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য এনএসআই পরীক্ষা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বিনামূল্যে করার পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। বিষয়টি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সারাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ১৪ জুন ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনামূল্যে পরীক্ষার মেয়াদ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চেয়ে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টার (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ব্যবধানে কমেছে হাম ও এর রোগের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা। গত ৬ দিন যাবৎ (২ জুলাই থেকে ৭ জুলাই) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা শূন্যই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ৩ জন আর রবিবার হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গতকাল মঙ্গলবার হামের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক বিষয় নিয়ে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২ শিশু। ২১৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮১৯। এই সময়ে ৭৮৮ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭৮২ শিশু।
চলতি বছর হামে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২ এপ্রিল থেকে হামের তথ্য গণমাধ্যমে পাঠাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামের উপসর্গ নিয়ে বা নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ও মৃতের তথ্য প্রকাশ করছে। তবে কোন বয়সের, কোন আর্থসামাজিক শ্রেণির মানুষ তারা, হামে আক্রান্ত হওয়ার কত দিন পর তাদের মৃত্যু হচ্ছে, মৃত্যুর আগে তাদের কোন ধরনের চিকিৎসা হয়েছিল- তার কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৪৯ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৪২ শিশু মারা গেছে। সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৩৮৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৯০ হাজার ৫২২ রোগী, যাদের মধ্যে ৮৬ হাজার ৮৪৪ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই এক দিনে ঢাকা বিভাগে ৫২ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪১ জন এবং খুলনা বিভাগে ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩৯ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৬১১ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরেই আছেন ১৪১ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৩০৬ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩১৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২ হাজার ৫৭০ জন (মহানগরসহ), খুলনা বিভাগে ৯০৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৫৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২৪ জন, সিলেট বিভাগে ৬৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন এবং বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে ১ জন করে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৬৭৬ জন।
