স্থানীয় নির্বাচন অক্টোবরে শুরু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে এই নির্বাচন শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ তৈরি করছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের ৭ জন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারের সময় ধাওয়া খেয়ে তুরাগ নদে ডুবে নিখোঁজের অভিযোগ এবং পরবর্তীকালে ওই নদে একাধিক মরদেহ উদ্ধার নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে নানা আলোচনা নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়।
তুরাগ নিয়ে যেটা হয়েছে- এক পক্ষ রক্তে লাল করেছে, অন্য পক্ষ বলছে প্রোপাগান্ডা। সরকার বিষয়টা ক্লিয়ার করছে না কেন? তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ওখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে। খুবই আনএক্সপেক্টেড, আমরা প্রায় বলি যেটা হতে পারে না, এটা হওয়া উচিত না। কিন্তু আপনারা জানেন ঘটনাগুলো কীভাবে হয়েছে। সরকারের যে স্বাভাবিক কাজ, সরকার এগুলো তদন্ত করবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কিনা। এটা নিয়ে ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টও আছে , যেখানে ক্লিয়ারলি দেখা গেছে আসলে তারা পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই এটা হয়েছে। এ ঘটনাকে আমরা দুঃখজনক মনে করি। আওয়ামী লীগ যারা এখনো করেন, এখনো যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি খুব দুঃখ পাই, আমি সত্যিই দুঃখ পাই, কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান। তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি এবং প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই- রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারো বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, বিচারক সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।
ভারতে অবস্থান করে আওয়ামী লীগ নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, ভারতে বসে তারা যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে আমরা এটা নিয়ে আগেও আমাদের সরকার থেকে কথা বলা হয়েছে, এটা বলা হবে। কারণ এদের মধ্যে অনেকেই মামলার আসামি আছেন, এদের অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারো কারো সাজা হয়ে গেছে। কথা বলা দূরে থাক, তাদের তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কথা নিয়মিতভাবে বলা হচ্ছে, আমরা সেটা চালিয়ে যাব। জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই জাদুঘর আগামী ৫ আগস্টের আগে উদ্বোধন করা হবে। এ সরকার জুলাইয়ের সরকার। কাজেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। এসব মন্তব্য ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা, সেই আলোচনা চলতে পারে।
সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনার তদন্ত হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক’ বলে বর্ণনা করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে, যারা এর সঙ্গে জড়িত- সেই তদন্ত করা, তাদের ধরা। নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে আমি এটুকু বলব যে- রাজনৈতিক বক্তব্য বলে একধরনের কথা প্রচলিত আছে, সেই রাজনৈতিক বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। সেটা তার অধিকারও আছে। তিনি সেটা বলতে পারেন। তবে আমরা একটা রাজনৈতিক দলের প্রধানের মুখ থেকে আরেকটু দায়িত্বশীল মন্তব্য আশা করি।
এ সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তিনি বলেন, গত জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার ব্যাপারে জনগণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে খাদ্য চাষ এবং সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের ডাটা সংগ্রহ করে একটি তথ্যভাণ্ডার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করার পাশাপাশি অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। খাদ্য মজুত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বর্তমানে ৯ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য বেশি মজুত আছে।
