চট্টগ্রামের জলজট নিরসনে সমন্বয় সভায় সন্তুষ্টি প্রকাশ
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত দেশের ইতিহাসে বিরল উল্লেখ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক নয়, বরং সমন্বিত উদ্যোগ, মানবিকতা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে অনুষ্ঠিত জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে গঠিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয় কমিটির জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হলেও অতীতে বিভিন্ন কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খালগুলোর টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অর্থায়নের বিষয়েও পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন), জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) উপসচিব, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক), ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডে কর্মরত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, সিডিএর সদস্য (প্রকৌশল), চসিকের সচিব, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং চসিকের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদ উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র বলেন, গত চার থেকে পাঁচদিনে চট্টগ্রামে প্রায় এক হাজার মিলিমিটারের কাছাকাছি বৃষ্টিপাত হয়েছে। একদিনেই ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসেও অন্যতম সর্বোচ্চ। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক শহরে পুরো বছরেও এত বৃষ্টিপাত হয় না। তাই এই দুর্যোগের বাস্তবতা সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, এখনো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা
রয়েছে। ফলে কোথাও যেন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ওয়াসা, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছেন। কোথায় কেন পানি জমে আছে, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড যেভাবে খাল পুনরুদ্ধার ও প্রশস্ত করার কাজ করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এসব কাজ না হলে এবারের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আমরা সবাই মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। যেসব এলাকায় এখনো মানুষ পানিবন্দি আছেন, তাদের দুর্ভোগের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। মানবিক দায়িত্ব থেকে আমরা তাদের পাশে আছি এবং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নাগরিকদের সহযোগিতার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে ধীরে ধীরে জলাবদ্ধতামুক্ত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।
