মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের বিকাশে ‘সপ্ল্যাশ’
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ নিশ্চিত করতে এসব খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এর ফলে বাস্তুচ্যুতিসহ নানা সংকটের মধ্যে থেকেও শিশুরা শিখতে পারবে এবং নিজেদের সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। ব্র্যাক আয়োজিত সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (সপ্ল্যাশ) উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল সোমবার সোনারগাঁও হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং দ্বিতীয় পর্বের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং সম্মনিত অতিথি ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। এছাড়া অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে লেগো ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আলামির বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪৭ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু সংঘাত ও মানবিক সংকটপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। যেখানে ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। এসব অঞ্চলে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের ৫ বছর মেয়াদি ৫ কোটি মার্কিন ডলারের এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উগান্ডায় মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুদের লালনপালন ও বিকাশে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের এই অংশীদারিত্বের প্রথম ধাপ ‘সপ্ল্যাশ’ বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এ উদ্যোগের আওতায় শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে অল্পবয়সী শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য শিশুদের চাহিদা বুঝে যতœ নেয়া, আশ্রয়শিবিরে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে খেলাধুলাভিত্তিক প্রারম্ভিক শিক্ষা, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণে সহায়তা এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য অব্যাহত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা মেন্টরশিপ ও জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা ও সার্বিক বিকাশে অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করা হবে।
