লালবাগে আটক ২
মারধরের পর ব্যবসায়ীর মৃত্যু
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
পুরান ঢাকায় মারধরের পর মো. স্বপন (৬২) এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো বাসাভাড়া পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- রিজভী ও রোহান।
গতকাল সোমবার ভোর চারটার দিকে লালবাগের আজিমপুর গভর্নমেন্ট মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। স্বপনের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার তাহের ফকির কান্দি গ্রামে। তিনি আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিভিন্ন দোকানে প্রসাধনসামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা করতেন। আহত স্বপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে ভোর পাঁচটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়।
নিহত স্বপনের বড় ভাই রাজা মো. সেলিম বলেন, তারা দুই ভাই আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলার একটি ঘরে মাসিক ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় থাকতেন। গত মাসের ভাড়ার মধ্যে এক হাজার টাকা বকেয়া ছিল। ১২ তারিখে সেই টাকা পরিশোধ করা হয়। রাতে বাড়িওয়ালা রিজভীকে টাকা নেয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রাজা মো. সেলিমের ভাষ্য, পরদিন রাত সোয়া ৩টার দিকে রিজভী টাকা চেয়ে ফোন দেন। পরে তিনি বাসায় এসে জোরে দরজায় আঘাত করেন। দরজা খোলার পর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এখন টাকা দেবেন না, কমিটির কাছে বিচার দিয়ে পরে টাকা দেবেন। রিজভী তাদের গালিগালাজ ও মারধর করেন এবং দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
ছোট ভাই স্বপন প্রতিবাদ করলে রিজভী ও তার সহযোগী চাচাতো ভাই রোহান জোর করে স্বপনকে স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের মাঠে নিয়ে যান। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি লাথি ও বুকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্বপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহানকে আটক করেছে পুলিশ। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
