রাজধানীর ৫০ জায়গায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজধানীর আরো ৫০টি জায়গায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ইট উৎপাদনের জন্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
সরকারপ্রধানের দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ; ইটভাটার সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদন; ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার; সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণের মতো বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া রাজধানীতে আরো অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সড়কে যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা ও যানজট নিরসনে গতবছর আগস্ট মাসে রাজধানীর সাতটি মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং জাহাঙ্গীর গেট মোড়ে এসব স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পাশাপাশি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে এ পরীক্ষামূলক সিগন্যাল ব্যবস্থার তদারকি করে।
এছাড়া চলতি বছরের মে মাসে ঢাকার ৩০টি মোড়ে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অপরাধ শনাক্ত করে মামলা দেয়া শুরু হয়।
গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা, জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি উঠিয়ে দেয়া, স্টপ লাইন না মানা, বাঁ লেন বন্ধ করে রাখা, হেলমেট না পরা, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, ফুটপাতে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিংকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিককে জরিমানা করা হচ্ছে এ ব্যবস্থায়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
