×

শেষের পাতা

রং-বেরঙের ক্যাকটাসের বিচিত্র সমাহার

মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টার

Icon

হরলাল রায় সাগর, মোস্তফাপুর, মাদারীপুর থেকে ফিরে

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রং-বেরঙের ক্যাকটাসের বিচিত্র সমাহার


বাহারি রঙের ক্যাকটাস। লাল, সবুজ, নীল, হলুদ, খয়েরি; আরো কত রং। কোনোটায় কাঁটাভর্তি, কোনোটায় কাঁটা নেই। কোনোটা নরম, কোনোটা শক্ত। কোনোটা নকশায় ভরা আবার কোনোটা মসৃণ। বিচিত্র সমাহার। যা দেখে যে কারোরই মন জুড়িয়ে যাবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্যাকটাস জার্মপ্লাজম সংগ্রহশালা মাদারীপুর হর্টিকাল সেন্টার। ২১০ প্রজাতির ক্যাকটাস শোভা পাচ্ছে এখানে। চাকরির সুবাদে দায়িত্ব তো আছেই, তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্যাকটাসের এই সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন হর্টিকালচার সেন্টারটির উপপরিচালক কৃষিবিদ আশুতোষ কুমার বিশ্বাস। জেলায় অনেক শৌখিন ব্যক্তি ক্যাকটাস নিচ্ছেন ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে। এ ছাড়া এখান থেকে ক্যাকটাস নিতে আসেন দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্যাকটাসপ্রেমীরা। বাণিজ্যিকভাবে কিনে নিচ্ছেন কেউ কেউ।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বড় ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারটি। এখানে ঢুকতেই চোখে পড়বে রং-বেরঙের, বিচিত্র কাঁটায় ভরা গাছ। চোখ ধাঁধাঁনো মনমুগ্ধকর ক্যাকটাসের সমাহার। পরম যতেœ গাছের চারা উৎপাদনের কাজ করছেন হর্টিকালচার সেন্টার সংশ্লিষ্টরা। বিচিত্র ক্যাকটাস গাছগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, চকলেট ক্যাকটাস, পদ্মসেজী, ওপানশিয়া, ইউফরবিয়া টুলিয়রেনসিস, ডিভাইন ক্যাকটাস, বিশপ’স ক্যাপ ক্যাকটাস, র‌্যাটস টেইল ক্যাকটাস, ফেইরি ক্যাসেল, ম্যামিলারিয়া, অ্যাস্ট্রোফাইটাম, রেইনবো ক্যাকটাস, ওল্ড লেডি, হেমাটো ক্যাকটাস, ব্রেইন ক্যাকটাস, পিনাট ক্যাকটাস, ব্যানানা ক্যাকটাস, বান্নি ক্যাকটাস, ইচিনোপসিস, ক্যাটস টেইল ক্যাকটাস, স্টেপেলিয়া, জিমনোক্যাকটাস, ফেরো ক্যাকটাস, গোল্ডেন ব্যারেল, লাভাভিয়া, কোরাল ক্যাকটাস, ইউফরবিয়া, ওল্ড ম্যান, নোটো ক্যাকটাস, প্যারোডিয়া, ক্রিস্টেড, লেডি ফিঙ্গার, মাংকিটেইল ক্যাকটাস। 

হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ আশুতোষ কুমার বিশ্বাস তুলে ধরেন ক্যাকটাস সংগ্রহের আদ্যোপান্ত। তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে প্রথমে ব্যক্তি উদ্যোগে ক্যাকটাস সংগ্রহ শুরু করেন। এরপর ক্যাকটাসের প্রেমে পড়ে যান। সেই নেশা থেকেই শুরু হয় সংগ্রহের কাজ। অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাকটাসের গাছ দেখে কিনে আনতে শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন নার্সারি, মানুষের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করেন। যখন যেখানে গেছেন বা কাজের জন্য বিভিন্ন জেলায় গিয়েও ক্যাকটাস সংগ্রহ করেন। মাত্র দুই বছরেই ২১০ প্রজাতির ক্যাকটাসের সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন তিনি। 

কৃষিবিদ আশুতোষ কুমার বিশ্বাস জানালেন, তার বাড়ি মানিকগঞ্জে। ছাত্রজীবন থেকেই মূলত ক্যাকটাসের প্রেমে পড়ে যান। এরপর ক্যাকটাস সংগ্রহ শুরু করেন। বিভিন্ন সময়ে ঢাকা থেকে কিছু কিনে সংগ্রহ করতেন। তখন থেকেই তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে অন্তত ১৫ জাতের ক্যাকটাস ছিল।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আমি যেখানে চাকরি করছি সেখানেই ক্যাকটাস সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। এর আগে আমার চাকরিস্থল ছিল খাগড়াছড়ির রামগড় হর্টিকালচার। সেখানেও প্রায় ৫০ জাত কালেকশন ছিল। পরে আমার ব্যক্তিগত কিছু কালেকশন ওখান থেকে এখানে নিয়ে আসি। এখন এখানে ক্যাকাটাসের অন্তত ২১০ প্রজাতির চারা রয়েছে। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়বে বলে প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, একটা সময় আমাদের বিশাল বিচিত্র ক্যাকটাসে সংগ্রহে পরিণত হবে। সুবিধা হলো- গাছগুলো সহজেই লাগানো যায় এবং ঘরের ভেতরে রেখে সৌন্দর্য বাড়ানো যায়। 

আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রকারভেদে ক্যাকটাসের বিভিন্ন দাম হয়ে থাকে। সাধারণত ক্যাকটাসের দাম বেশি হয়। অনেকের ইচ্ছে থাকলেও দামের জন্য কিনতে পারেন না। তাই সংগ্রহ করা ক্যাকটাস থেকে চারা বানিয়ে থাকেন। অল্পদামে ক্যাকটাসপ্রেমীদের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই গত দুই বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সর্বোচ্চ ৮০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে একটি চারা। মাত্র গত ২ দুই বছরেই ক্যাকটাস বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ টাকার।

তিনি বলেন, কিছু ক্যাকটাসের বীজ হয়, সেই বীজ থেকে বহু চারা তৈরি করা যায়। কিছু ক্যাকটাস কলম করা হয়। কোনো কোনো ক্যাকটাস কুঁড়ি থেকে চারা তৈরি করা যায়। কিছু আছে কাÐ কেটেও চারা বানানো যায়। এভাবেই ক্যাকটাসের সংখ্যা বাড়াচ্ছি। আগামী মার্চ মাস থেকে তা বিক্রি করা হবে।  জেলা পর্যায়ে ক্যাকটাস মানুষ পছন্দ করবে কি না, তা ভাবনার বিষয় ছিল। কিন্তু চারা প্রস্তুত করার পর সেই ভাবনা বদলে গেছে। আশুতোষ বিশ^াস বলেন, যখন ক্যাকটাস উৎপাদন শুরু করি, তখন অনেকেই বলেছিলেন মাদারীপুরে ক্যাকটাসের চাহিদা হয়তো বেশি হবে না। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানলাম, মাদারীপুর জেলার বহু মানুষ প্রবাসে থাকেন; সেসব পরিবার অনেক শৌখিন। তারা শখ করে গাছ নেবেন। পরে আমরা যখন গাছ উৎপাদন করলাম; তখন দেখি মাদারীপুরসহ অন্য জেলা থেকেও মানুষ এসে ক্যাকটাস সংগ্রহ করছেন। এতে আমাদের আগ্রহ বেড়ে যায়। জেলায় ক্যাকটাসের চাহিদা অনেক বেশি। তাই বিভিন্ন পদ্ধতিতে গাছ উৎপাদন করা হচ্ছে।

হর্টিকালচার সেন্টারটিতে নানা ফুল, ফল, সবজি, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ ও চারারও সমাহার রয়েছে। এ ছাড়া এখানে টিস্যু কালচার ল্যাবটরিতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে মাতৃগাছের হুবহু বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত চারা। গত অর্থবছরে শুধু চারা বিক্রি করেই কেন্দ্রটির আয় হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর উৎপাদন ও বিক্রির লক্ষ্য আরো বাড়ানো হয়েছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নৌ-অবরোধ ঘোষণা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নৌ-অবরোধ ঘোষণা

শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না

সারোয়ার তুষার শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না

নিবন্ধন পেল বাংলাপোস্ট

নিবন্ধন পেল বাংলাপোস্ট

গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ

সারজিস আলম গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App