চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের বোধোদয়!
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
অতিবৃষ্টি-বন্যা-জলাবদ্ধতাসহ প্রাকৃতিক বৈরী পরিবেশের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীরা কোনো তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে তিনদফা দাবিতে আন্দোলনে নামলেও সেখান থেকে ‘এবাউট টার্ন’ করেছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর মানসিক চাপ ও সেশনজটের আশঙ্কা করছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একাংশ। অথচ মাত্র ৫ দিন আগেও পরীক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে প্রচণ্ড অনড় থাকলেও সেখান থেকে সরে এসেছে।
নানা পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। সম্ভবত তাদের মধ্যে বোধোদয় হয়েছে যে, তাদের ব্যবহার করে কোনো অশুভ তৃতীয় শক্তি তাদের ফায়দা হাসিলের জন্য ব্যবহার করছে মাত্র। তাই অনতিবিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা এবং স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর জন্য যৌক্তিক বিরতি (গ্যাপ) দিয়ে নতুন রুটিন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের একদল পরীক্ষার্থী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হয়েছিল।
তারা বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার দাবি জানায়। একইসঙ্গে স্থগিত করা পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচিতে প্রতিটি বিষয়ের মাঝে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ দিন বিরতি রাখার অনুরোধ জানিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দেন। রবিবার এসব পরীক্ষার্থীদের পক্ষে আলতাফুল আলম সাকিব, এস এম নাজিফ নুর, মুহাম্মদ জাঈদুল কবির, মারুফ হোসেন তাসিন ও শাহরিয়ার হাশিমসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এই দাবিতে স্বাক্ষর করেন।
ওই স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, স¤প্রতি প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বাংলা ১ম, বাংলা ২য় এবং ইংরেজি ১ম পত্রের পরীক্ষা হওয়ার পর অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা সচল রয়েছে। ফলে অন্য বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা যথাসময়ে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এগিয়ে যাবে। আর চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা চরম বৈষম্য ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়বে। এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতেই তারা দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানাচ্ছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের বেশ কিছু পরীক্ষার্থী বোর্ডে এসেছিল। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শুরু করা এবং রুটিনে যৌক্তিক গ্যাপ রাখার দাবি জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বোর্ড চেয়ারম্যান পরীক্ষার্থীদের স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের এই যৌক্তিক দাবি ও আবেদনের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অত্যন্ত দ্রুত সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’
