বৃষ্টির প্রভাবে বায়ুর মান কিছুটা উন্নত
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দূষণের দিক দিয়ে মেগাসিটি ঢাকার অবস্থান সামনের সারিতেই। তবে টানা বৃষ্টির প্রভাবে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে সকালে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের বায়ুর মান কিছুটা উন্নত ছিল। গতকাল সকাল ৮টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ৯৮। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচকে এমন তথ্যই জানা গেছে। বিশ্বজুড়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা কিছুটা পিছিয়ে এলেও নিয়মিতই শীর্ষ তালিকার আশপাশে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার সকালে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান শীর্ষ দশের মধ্যে থাকলেও বৃষ্টির প্রভাবে শুক্রবার সকালে বায়ুর মানের কিছুটা পরিবর্তন আসে।
একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো একটি এলাকা বা শহরের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান অনেক ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন। তাদের মতে, এসব উৎস থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে বায়ুর মানে স্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব নয়।
আবহাওয়া ও বায়ুদূষণ সম্পর্কিত তথ্যে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্ষাকালে নিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে বাতাসে ভেসে থাকা ধুলাবালি ও ক্ষতিকারক কণা ধুয়ে মুছে যায়, যার কারণে সাময়িকভাবে বায়ুর মানের কিছুটা উন্নতি ঘটে। তারা বলেন, সাময়িক বৃষ্টিতে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হলেও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং লাগামহীন নগরায়ণের ফলে ঢাকার বায়ুদূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি। ডব্লিউএইচও’র মতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণের কারণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।
