হবিগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলকে ঘিরে সংঘর্ষ, হামলা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে এবার পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটেছে। এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর, জেলা ছাত্রদলের এক নেতা এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক গতকাল শুক্রবার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ওসি জানান, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জানা গেছে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মামলার বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।
এজাহার অনুযায়ী মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকার সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদলের দাবি, জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে তাদের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলায় জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের ওপর লোহার রড, রামদা, ফিকল ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের সময় কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। মামলায় আইফোন-১৩, আইফোন-১১, আইফোন-১৪, আইফোন-১৫, একটি স্যামসাং এস-২২ মোবাইল ফোন ও ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও মামলা করা হয়। জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এনসিপির অভিযোগ, গত ২৮ জুলাই জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা চালায়। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। দলটির দাবি, হামলায় তাদের এক কর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এনসিপির ভাষ্যমতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য একটি ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় ও নিরাপত্তার মধ্যে এলাকা ত্যাগের ব্যবস্থা করে।
অন্যদিকে, পাল্টা মামলার প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন দাবি করেন, হামলার শিকার হয়েছেন এনসিপির নেতাকর্মীরাই এবং তাদের পক্ষ থেকেই মামলা করার কথা ছিল। ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, আইফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ অত্যন্ত হাস্যকর ও এটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, প্রকৃত অর্থে কোনো মোবাইল ফোন নয়, বরং বিএনপি ও তারেক রহমানের মানসম্মানই ছিনতাই হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের দায়ের করা মামলার অভিযোগ সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না এবং এটি রাজনৈতিকভাবে এনসিপিকে চাপে ফেলার চেষ্টা।
