×

শেষের পাতা

খুলনায় অতিবৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

Icon

বাবুল আকতার, খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনায় অতিবৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

অতিবৃষ্টির অজুহাতে খুলনায় কাঁচাবাজারে বেগুন, মরিচসহ সবজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩২০ টাকা দরে। পাড়া মহল্লায় আরো বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অতিবৃষ্টিতে কাঁচামরিচের ফলন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। লাফিয়ে লাফিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

গতকাল শনিবার সকালে নগরীর বড়বাজার, রুপসা বাজার, সোনাডাঙ্গা কাঁচাবাজার, নিউমার্কেট বাজার, খালিশপুর হাউজিং বাজার, বয়রা কাঁচাবাজার, চিত্রালী সুপার মার্কেট বাজার, দৌলতপুর কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন সবজি, মাছ, ও মাংসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৩২০ টাকা। যা গত ১৫ দিন আগেও কাঁচামরিচ ১৬০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। থেমে নেই পেঁয়াজের দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। পাড়া মহল্লায় আরো বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অতিবৃষ্টিতে কাঁচামরিচের ফলন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর নিত্যপণ্য দুইটির দাম বৃদ্ধিকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলেছেন ক্রেতারা। গোল বেগুন ১৫০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও যে লাউ ৬০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটি কিনতে হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে পেঁয়াজ ও রসুনের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ৩০-৩৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। রসুনের দাম উঠেছে ১৪০ টাকা কেজিতে। সবজির পাশাপাশি হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা হালি, ফার্মের লাল ডিম ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা হালি। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। মাছের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের চাষের রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৯০০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহও কম। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

খুলনার বড় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ বাণিজ্য ভান্ডারের মালিক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি খুবই কম। বড় বাজার ও সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল কাঁচাবাজারে ফরিদপুর, শৈলকূপা, কুষ্টিয়া ও মাগুরার মোকাম থেকে এ পণ্যটি আমদানি করা হয়। এসব মোকামগুলোতে পেঁয়াজের সংকট থাকায় ব্যাপারীদের সেখান থেকে বেশি দামে কিনে এখানে তা বিক্রি করতে হচ্ছে।

বড় বাজারের ব্যবসায় আব্দুস সালাম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এক নাগাড়ে ভারী বর্ষণ চলছে। বৃষ্টিতে মরিচ গাছ পচে যায়। ফলন পাওয়া যায় না। তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি না থাকায় পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে। বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১০ দিন ধরে এ পণ্যটি ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া আড়তগুলোতে দাম বেশি হওয়ায় তাকে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

মিস্ত্রিপাড়ার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে অনেক গাছ মরে গেছে। ডুমুরিয়া ও শরাফপুর গিয়ে সেখানে কাঁচামরিচ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া খুলনার পাইকারি বাজার ট্রাক টার্মিনালে গিয়েও পণ্যটি পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গত বছরের এ সময়ে আমরা একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। চৈত্র মাসে থেকে এ পণ্যটি বাজারজাত করছেন উল্লিখিত এলাকার কৃষকরা। আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। দামের পত্তা থাকায় গত সপ্তাহে ২৫০ গ্রাম ৭০ টকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু দামের পত্তা না থাকায় এখন কেজি প্রতি ৩২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনালের ব্যবসায়ী ও মোরেলগঞ্জ বাণিজ্য ভান্ডারের কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পেঁয়াজ চাষিরা ঘর থেকে পণ্যটি বের করতে পারেনি। তাছাড়া বৃষ্টির মৌসুমে কৃষকরা পাট চাষের দিকে মুখাপেক্ষী হচ্ছেন। যে কারণে মোকামগুলোতে আমদানি কম হওয়া পণ্যটির দাম বেড়েছে। পাঁচ কেজির এক দাঁড়ি তিনি ২৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ।

খালিশপুর চিত্রালী বাজারের ক্রেতা ইসমাইল হোসেন জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন থেকে পেঁয়াজের জন্য আরো অতিরিক্ত ২০ টাকা করে গুণতে হবে। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, আমাদের যেতেও একবার কাটে, আসতেও কাটে। ব্যবসায়ী থেকে সরকার পর্যন্ত সবাই-ই কাটে। আমাদের অবস্থা দেখার মতো কেউ নেই।

বাজারে আসা ক্রেতা সালাউদ্দীন জানান, আজকের বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম চড়া। সবজিই যদি এত বেশি দামে কিনে খেতে হয়, তাহলে মাছ, মাংস আর মুরগি কীভাবে কিনব? সেগুলোর তো আরো বেশি দাম। বিশেষ করে কাঁচামরিচের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাজধানীতে আরো ২ মেট্রোরেল, যুক্ত হচ্ছে যেসব এলাকা

রাজধানীতে আরো ২ মেট্রোরেল, যুক্ত হচ্ছে যেসব এলাকা

রিমান্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

রিমান্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

পেট্রোল ঢেলে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী আটক

পেট্রোল ঢেলে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী আটক

ম্যাচ চলাকালীন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে গুলি করে হত্যা

ম্যাচ চলাকালীন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে গুলি করে হত্যা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App