অনিয়মের অভিযোগ
সাবেক উপাচার্যসহ যবিপ্রবির ১১ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চুরি ও গবেষণা অনিয়মের অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নাম থাকা ১১টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদের সহলেখক হিসেবে থাকা দুটি গবেষণাপত্রও রয়েছে। অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রত্যাহার হওয়া দুটি গবেষণাপত্রের সহলেখক।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যবিপ্রবির চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন আবদুল মজিদ। তবে এর প্রায় আট মাস আগে, একই বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিন্দাউই তাঁর সহলেখক থাকা দুটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করে।
প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাগুলোর একটিতে দেশীয় শজনে বীজের নির্যাসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। অন্যটিতে সেলুলোজভিত্তিক ন্যানোকম্পোজিট ব্যবহার করে ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ ও জৈব অণু সুরক্ষার কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিন্দাউইর তদন্তে দাবি করা হয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা ছাড়াই গবেষণার তথ্য ও ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব তথ্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও নির্ভরযোগ্যতারও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন : অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান
তদন্তে আরো উল্লেখ করা হয়, গবেষণাপত্র দুটি ‘পেপার মিল’-এর মাধ্যমে তৈরি বা প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ‘পেপার মিল’ বলতে অর্থের বিনিময়ে গবেষণাপত্র তৈরি, বিক্রি বা প্রকাশে সহায়তাকারী সংগঠিত চক্রকে বোঝায়। এছাড়া গবেষণাপত্র মূল্যায়নের পিয়ার-রিভিউ প্রক্রিয়ায় ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে অধ্যাপক আবদুল মজিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। তিনি শুধু গবেষণার ধারণাগত বা আইডিয়া-সংক্রান্ত অংশে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত যবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাম থাকা মোট ১১টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি প্রত্যাহার হয় ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এবং সর্বশেষ একটি প্রত্যাহার করা হয় মে মাসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুল মজিদ বলেন, কয়েকটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ছিল, তাদের গবেষণার জন্য পুরস্কার দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রের তালিকায় দেশের আরো কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, এআইইউবি এবং ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডিএ) উল্লেখযোগ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ডিয়েগোর নিউরোসায়েন্স বিভাগের গবেষক নাদিম মাহমুদ বলেন, উন্নত বিশ্বে গবেষণায় চুরি বা অনিয়মকে গুরুতর নৈতিক অপরাধ হিসেবে দেখা হয় এবং এর জন্য গবেষকদের একাডেমিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর মতে, বাংলাদেশেও এ বিষয়ে জবাবদিহির সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
