×

শেষের পাতা

সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসছে জামায়াত ও এনসিপি

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসছে জামায়াত ও এনসিপি

দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাসের মাথায় বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে বিরোধী রাজনৈতিক দল- জামায়াতে ইসলাম ও এনসিপি। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে দল দুটির শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার সম্পর্কে বিষোদগার করছে। বিশেষ করে জুলাই যাত্রায় বিভিন্ন এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলা-মারধরের শিকার হওয়ায় রাজনীতিতে উত্তপ্ত বাতাস লেগেছে। জামায়াত-এনসিপি বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কেন তুলনা করছে তা নিয়ে প্রশ্ন জনমনে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাস দুয়েক পর থেকেই বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলতে শুরু করে ক্ষমতার অংশীজন বিরোধী শিবির।

জামায়াত নেতাদের মতে, বিএনপি আওয়ামী লীগের স্টাইলে পুরনো ‘ফ্যাসিবাদী’ কায়দায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। দ্বিমত পোষণের অধিকার হরণে আওয়ামী লীগকে অনুসরণ করছে তারা। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু কুক্ষিগত করছে। নির্বাচন না দিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সবকিছু লুটেপুটে খাচ্ছে। গণভোটের রায় না মেনে প্রতারণা করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

অপরদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, বিএনপির শাসনামলে কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়নি। এমনকি গুমের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বিএনপি সরকার। এখন জনগণ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে- যা ইচ্ছা তা করতে পারছে। এমনকি দ্বিমত পোষণও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখছে সরকার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। আবার সংসদের বিষয়গুলো জামায়াত কেন রাজপথে আনছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।

বিপরীত মেরুর রাজনীতি করলেও বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি উভয়পক্ষ জুলাইয়ের পক্ষের দল। আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা ছিল। এ কারণে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একপক্ষ কোথাও হামলার শিকার হলে অন্যপক্ষ প্রতিবাদ জানিয়েছে। রাজপথে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করেছে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে এনসিপি।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দেয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

গত শুক্রবার রাতে জৈন্তাপুর থেকে সিলেট সার্কিট হাউসে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জুলাই যাত্রায় হামলার শিকারের অভিযোগ করে বলেন, আজকে ইশরাক উসকানি দিয়েছেন, রাশেদ খান উসকানি দিয়েছেন। আমি জীবন নিয়ে শঙ্কাবোধ করছি, আমি নিরাপদ নই। তারেক রহমান আজ রাজনৈতিকভাবে একটি বড় ভুল করেছেন। শেখ হাসিনা আমাকে রিমান্ডে নিয়েছিলেন। তাকে দেশ থেকে তাড়িয়েছি। তারেক রহমান, আপনিও বড় ভুল করেছেন। এজন্য আপনাকে কাফফারা দিতে হবে- এমন কাফফারা, যা আপনি কল্পনাও করেননি। আপনি আমার ব্যক্তিগত রক্ত ঝরিয়েছেন। আমি এটাকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা।

৩০ জুলাই সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে রাস্তা ঘেরাও করে রাখা শেখ হাসিনার কপি। কপি করে নয়, আন্দোলন দমনে নতুন কৌশল নিয়ে হাজির হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আহত সহকর্মীকে দেখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের পরিস্থিতি খুব খারাপ। ৭০ শতাংশ গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকতে হলে অবশ্যই শেখ হাসিনা সরকারের মতো দমন-পীড়ন ও নির্যাতন করতে হবে। সরকারকে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সরকারের নীতিমালার প্রতিবাদে দেশবাসীকে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম গত শুক্রবার বলেছেন, আজকে না হয় এনসিপির ওপর হামলা করেছে দেখে ছাত্রদল-বিএনপির একটা অংশ চুপ। কয়েকদিন পরে তো আপনাদের ক্ষমতার দ্ব›দ্ব শুরু হবে, ভাগ-বাঁটোয়ারা শুরু হবে। নির্বাচনে আপনাদের প্রার্থীর কামড়াকামড়ি শুরু হবে। ওই দিন আর এনসিপির আলিফের চোখ তুলে দিতে হবে না। বিএনপি বিএনপির চোখ তুলে ফেলবে।

গত ২৯ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয় এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এনসিপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার জুলাইয়ের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই অতীতের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে।

এনসিপি মিডিয়া সেলের প্রধান মাহবুবুল আলম অভিযোগ করেন, সরকার ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এগোচ্ছে। একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে এনসিপিকে টার্গেট করা হচ্ছে। তাই একটি হামলারও বিচার করেনি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এর জন্য সরকারকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে।

সরকার গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্যবার আওয়ামী লীগের শাসনামলের সঙ্গে বিএনপিকে তুলনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেয়া হবে।

বিএনপি সরকার গঠনের দু’মাসের মাথায় জামায়াত আমীর বলেছেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় বসে গুম কমিশন, দুদক, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এ জন্যই গণভোটের রায় মানতে চায় না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ রায় বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমাবেশে বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, মনে হচ্ছে নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে আরেকটা অনিবার্য বিপ্লবের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এরপর সিলেটের সমাবেশে তিনি বলেন, হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি ফ্যাসিবাদ আপনারা কায়েম করেন, জনগণ আপনাদেরও তাড়াবে। আপনাদেরও জনগণ ছেড়ে দিয়ে কথা বলবে না।

বিরোধীদলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়ে গত ১৩ এপ্রিলে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, এই আচরণ দেখাবেন না। জুলাইযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম, যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারো চোখ রাঙানির পরোয়া করে না। মনে রাখবেন, অপকর্ম করলে আগের সরকারের চেয়ে পরের সরকারের পরিণতি ভয়ংকর হয়।

চট্টগ্রামে ১৩ জুন এক সমাবেশে জামায়াতের আমীর বর্তমান সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সরকার গণভোটের রায় বা জনদাবি স্বেচ্ছায় মেনে না নিলে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। পরিণতি ভয়ংকর হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, বিএনপি ও বর্তমান প্রশাসন তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেদের নীতি থেকে সরে এসে আওয়ামী লীগের মতো একপেশে ও দলীয় আচরণের পথ অনুসরণ করছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি গণভোটের গণরায় অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা জনগণের যে প্রত্যাশা ও অধিকার তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না করে তা পুরনো ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে ফিরে যাচ্ছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, দ্রব্যমূল্য দিন দিন অনেক বেড়ে গেছে। আইনের শাসনের কোনো উন্নতি নেই। তাহলে এই যে এতগুলো বিষয়, সবকিছুই ফ্যাসিবাদী সরকারের লক্ষণ। এ জন্য তুলনা করা হয়, ভুল কিছু তো তুলনা করা হচ্ছে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

রাজধানীতে আরো ২ মেট্রোরেল, যুক্ত হচ্ছে যেসব এলাকা

রাজধানীতে আরো ২ মেট্রোরেল, যুক্ত হচ্ছে যেসব এলাকা

রিমান্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

রিমান্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

পেট্রোল ঢেলে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী আটক

পেট্রোল ঢেলে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী আটক

ম্যাচ চলাকালীন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে গুলি করে হত্যা

ম্যাচ চলাকালীন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে গুলি করে হত্যা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App