দুটি ধারা থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে সিডও ছায়া প্রতিবেদনে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সিডও সনদের (নারীর প্রতি সব প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ) ২ এবং ১৬, ১(গ) এর উপর সংরক্ষণ প্রত্যাহারের পাশাপাশি আরো কয়েকটি বিষয় যুক্ত করে ওই সনদের ছায়া প্রতিবেদন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ ফর সিডও বাংলাদেশ (সিআইসি-বিডি) প্ল্যাটফরমের সদস্যরা। ছায়া প্রতিবেদনে সিডও সনদের নারীবান্ধব আইন বাস্তবায়নের প্রকৃত অবস্থা, বৈষম্যমূলক আইন, বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন (অভিন্ন পারিবারিক আইন) সামাজিক সুরক্ষা, নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি, পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতি, ব্যাকল্যাশ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন পাশ, শিশুশ্রম, পাচার, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, মব ভায়োলেন্স- এই বিষয়গুলো এবারের প্রতিবেদনে যুক্ত করার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন তারা। গত রবিবার বিকালে পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান-মিলনায়তনে সিআইসি-বিডি প্ল্যাটফরমের সদস্যদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত; সিডও ছায়া প্রতিবেদন হলো এমন একটি প্রতিবেদন যা সরকারের দেয়া তথ্যের বাইরে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও নাগরিক সমাজ তৈরি করে। এটি জাতিসংঘের সিডও কমিটিতে জমা দেয়া হয়, যাতে দেশে নারীর অধিকার বাস্তবায়নের আসল চিত্র ও সরকারের লুকানো ত্রæটিগুলো প্রকাশ পায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। ২০২৫ সনে বাংলাদেশ সরকার এর সিডও প্রতিবেদন-এর উপর পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপন করেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী সুলতানা বেগম। সভায় সিআইসি-বিডি এর সদস্য সংগঠনের মধ্যে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উইমেন ফর উইমেন এর সভাপতি জাকিয়া. কে. হাসান; ¯েটপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার ও চন্দন লাহিড়ী; বাংলাদেশ জাতীয়
মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাড. সালমা আলী; বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী; মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিউতি সবুর, উইমেন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিস্টি; সাইটস সেভারস এর অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর সোহেল রানা; নাগরিক উদ্যোগ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিরা পারভীন; সেফ গার্ড রিসোর্স অ্যান্ড সাপোর্ট হাব এর কান্ট্রি লীড কাশফিয়া ফিরোজ; একশন এইডের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুয়িটি প্রোগাম লিড মরিয়ম নেছা; নিজেরা করি-এর কর্মসূচি সংগঠক নিশাত তাসনিম, ব্র্যাকের ফাতেমা ফেরদৌসী ও সিনিয়র স্পেশালিস্ট অদ্রিতা ইশনা ঢাকা ওয়াই ডব্লিউ সিএ অব বাংলাদেশ এর আইনজীবী সাবিনা শিপ্রা ও পূরবী তালুকদার; কর্মজীবী নারী-এর কো-অর্ডিনেটর কাজী গুলশান আরা দিশা; গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রোগ্রাম অফিসার সিজুল ইসলাম; বহ্নিশিখার নূরজাহান প্রমুখ।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নাগরিক সমাজের পক্ষথেকে প্রতি ৪ বছর পরপর সিডও অলটারনেটিভ রিপোর্ট ও সিডও ছায়া প্রতিবেদন দেয়ার কাজটি করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে এবারের রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ২০২২ সালে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জমা দেয়া অলটারনেটিভ রিপোর্ট ও ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের জমা দেয়া রিপোর্টকে বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমানে কতগুলো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, যেমন- ধর্মান্ধতার কারণে মৌলবাদের উত্থানের ফলে নারীর প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে এনার্জি সেক্টরের ইস্যু এবং সিডও সনদের ২ এবং ১৬, ১(গ) এর উপর সংরক্ষণ প্রত্যাহারের বিষয়সমূহ এবারের প্রতিবেদনে যুক্ত করতে হবে।
মালেকা বানু সিডও ছায়া প্রতিবেদন তৈরির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, জাতিসংঘের সিডও কমিটির আসন্ন পর্যালোচনাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত ছায়া রিপোর্ট তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
