ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: জকসু এজিএসসহ বেশ কয়েকজন আহত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জকসুর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলায় জকসু এজিএসসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
জকসু সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নির্মাণ শুরু এবং মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের দাবিতে প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এম এ রিফাত হাসানও ধাক্কাধাক্কির শিকার হন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়।
হামলায় জকসু জিএস ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ ফারুকের পা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং জকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
জকসু এজিএস মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, প্রথমে মেহেদী হিমেলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় এবং পরে মিছিল নিয়ে আবারও আক্রমণ করা হয়। এতে ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।
ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া জানান, হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তার দাবি, তাকে মুখ, নাক, হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়েছে।
ঘটনার পর জকসু প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে অডিটোরিয়ামের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
