×

শেষের পাতা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতাপরিপন্থি

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি নীল দলের ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএনপি ও জামায়তপন্থি সাদা দলের শিক্ষকরা যে দাবি জানিয়েছেন, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্বাধীনতাপরিপন্থি’ বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও গত রবিবার সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

স¤প্রতি ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক-ইউটিএল সদস্যরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান’ নেয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এরপর সিন্ডিকেট বৈঠকে এ বিষয়ে কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম খুঁজতেও কমিটি করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘অবস্থানের’ অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ঢাকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬৮ জন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সরকার-সমর্থক শিক্ষকদের একটি অংশ ফ্যাসিবাদ-বিরোধিতার নামে ২৩১ জন শিক্ষকের একটি তালিকা প্রণয়ন করে তাদের সবার বিরুদ্ধে ঢালাও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নিয়ে উপাচার্যের কাছে হাজির হয়েছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার পরিপন্থি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। কারণ রাজনৈতিক মত প্রকাশ বা সমর্থন কোনো অপরাধ নয়। কেবল ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ায় সহকর্মীদের প্রতি এমন প্রতিশোধমূলক আচরণ আমাদের কেবল ক্ষমতার দর্পে অন্ধ হওয়া আওয়ামী ফ্যাসীবাদী শিক্ষকদের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতি’ শিরোনামে বিবৃতিটি এদিন রাতে নিজেদের ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করে সংগঠনটি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং চারজনকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

গত ২৮ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। আর চার শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠনটি বলছে, ঢালাও তালিকা প্রণয়ন, অভিযোগ প্রমাণের আগেই তা সংবাদমাধ্যমে প্রচার করে সামাজিক হেনস্তা, কিংবা ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সম্পাদিত সব নিয়োগের বিরুদ্ধে ঢালাও তদন্তের ঘোষণা- এসব উদ্যোগ ‘উইচ-হান্টিং’ সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এ ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ নতুন করে ভয়ের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনে এবং তা আমাদের সেই ক্ষমতান্ধ চর্চারই কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার বিরুদ্ধে জুলাই দাঁড়িয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক পাঁচ দফা দাবি হলো- ১. যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও লিখিত অভিযোগ নিশ্চিত করা। ২. প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত পরিচালনা করা। ৩. অভিযুক্ত প্রত্যেককে অভিযোগ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত করা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ প্রদান করা। ৪. প্রমাণের ভিত্তিতে এবং ১৯৭৩ সালের আদেশে নির্ধারিত স্তরবিন্যস্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। ৫. কেবল রাজনৈতিক মত, পরিচয় বা তালিকার ভিত্তিতে গৃহীত সব ঢালাও ব্যবস্থা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার করা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এবার বিদ্যুৎ বিল বাড়ার অভিযোগ করলেন আজহারি

এবার বিদ্যুৎ বিল বাড়ার অভিযোগ করলেন আজহারি

প্রধানমন্ত্রী, আপনি এই সন্ত্রাসীদের থামান

আসিফ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী, আপনি এই সন্ত্রাসীদের থামান

ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে

সারজিস আলম ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে

ঢাকা কলেজে শিবিরের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ২০

ঢাকা কলেজে শিবিরের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ২০

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App