চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি
এনসিটি ও সিসিটির ইজারা বাতিলে ফের বাড়ছে উত্তাপ
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাজপথে স্লোগান উঠেছে- ‘আমার বন্দর, আমার মা- বিদেশিদের দেব না’, ‘রক্ত দেব, জান দেব, বন্দর দেব না’, ‘এনসিটি-সিসিটি বিদেশিদের দেব না’। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষায় এমন আরো নানা স্লোগানে মুখরিত হয়েছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি আগামী ১৫ আগস্ট কনভেনশন ডেকে সেখান থেকে বন্দর রক্ষায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে তাদের সমাবেশ থেকে। গতকাল সোমবার দুপুরে বন্দর নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলি মোড় এলাকা থেকে বন্দর অভিমুখে হওয়া এই পদযাত্রা কর্মসূচিতে আন্দোলনের এসব দিক তুলে ধরেন নেতরা।
তারা দাবি করেন, এটি সরকার বিরোধী কোনো আন্দোলন নয়, বরং যারা বন্দরকে নিয়ে, দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের দক্ষ জনশক্তিকে উপেক্ষা না করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর তুলে দেয়ার যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করা হবে। তারা বলেন, বন্দর ইস্যুতে জনগণের কথা সরকারকে শুনতে হবে, বুঝতেও হবে।
‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান নিয়ে এনসিটি, সিসিটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা না দেয়ার দাবিতে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম।
পদযাত্রার আগে বাদামতলি মোড়ে হওয়া সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, “এই আন্দোলন আজকের না। ১৯৯৭ সাল থেকে বন্দর রক্ষার আন্দোলন চলছে। চট্টগ্রামের শ্রমিকরা এটা কখনোই হতে দেবে না। বন্দর আমরা ছেড়ে দেব না। এটা মনে রাখেন।’
নির্বাচিত সরকার অবশ্যই জনগণের বক্তব্য শুনতে হবে। কানে তুলো পিঠে কুলো দিয়ে থাকলে, অজনপ্রিয় হবেন। আমরা সেটা চাই না। আমরা চাই তারেক রহমান সাহেব উপলব্ধি করবেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু পরামর্শদাতা আপনাকে খারাপ পরামর্শ দিচ্ছে। আশা করি সেগুলো গ্রহণ করবেন না।
তপন দত্ত বলেন, কিছু লোক সরকারকে ভুল বুঝাচ্ছে। অতীতে ভুল বুঝে, অনেক সরকারকে চলে যেতে হয়েছে। ভুল করবেন না। যদি ঘোষণা দেন, বন্দর দেব না। তাহলে বড় সভা করে তারেক রহমানকে আমরা অভিনন্দন জানাব।
আমরা কেউ ভোটে দাঁড়াব না। আমাদের রুটি রুজি কেড়ে নেবেন না। বাংলাদেশকে আমরা রাশিয়া, ভারত, চীন, আমেরিকা কারো লীলাখেলার ক্ষেত্র হতে দিতে চাই না। বন্দর আমরা আগেও চালিয়েছি। ভবিষ্যতেও চালাতে পারব। মুনাফা না হলে তখন বলবেন।
সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, সবাই দেশকে
ভালোবাসেন বলেই এই আন্দোলন। চট্টগ্রাম বন্দর হলো উটপাখি। দেশের বাকি সব বন্দর হলো- টুনটুনি পাখি। সব বন্দরের সক্ষমতা মিলে চট্টগ্রাম বন্দরের দশ ভাগের এক ভাগও না।
আমাদের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর। দেশি-বিদেশি লুটেরারা এই হৃৎপিণ্ড কেড়ে নিতে চায়। সরকার আমাদের, প্রত্যাশা করি সরকার আমাদের সঙ্গে থাকবে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল জনবিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র আছে। এ থেকে সরকারকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।
দেলোয়ার মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের মানুষের রক্তে, ঘামে ও অর্থে করা এই কনটেইনার টার্মিনাল কখনোই আমরা অন্যদের হাতে তুলে দেব না। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের অদক্ষতার দায় শ্রমিকদের উপর চাপিয়ে বন্দর বিদেশিদের হাতে দেয়া যাবে না। আমাদের এটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। সরকার যত তাড়াতাড়ি বুঝে তত দেশ ও জনগণের লাভ।
একই দাবিতে আগামী ১৫ অগাস্ট শনিবার নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার।
সমাবেশে ডক বন্দর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নয়, যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় তাদের থেকে উদ্ধার করতে এই আন্দোলন। তিনি বলেন, বন্দর বিদেশিদের দিয়ে দিলে তারা বাংলাদেশের টুটি চেপে ধরবে। বাংলাদেশ বাঁচবে না। এনসিটি সিসিটি আমাদের শ্রমে আজ আধুনিক পর্যায়ে। অতীতেও প্রমাণ করেছি, আগামী দিনেও প্রমাণ করব বন্দর পরিচালনায় আমরাই সক্ষম। বিদেশিদের কোনো প্রয়োজন নেই।
সমাবেশে টিইউসি যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান বলেন, যারা বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, তারা কেউ বাংলাদেশে থাকে না। তারা বিদেশি নাগরিক। আমাদের বিনিয়োগের উপর তারা মাখন খেতে চান। নতুন বিনিয়োগ করতে না, তারা দেশ দখল করতে আসছেন। কোনোভাবে বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেব না।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
