হামের উপসর্গে আরো ৩ জনের প্রাণহানি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।
গতকাল শুক্রবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে কারোর মৃত্যু হয়নি। তাদের মধ্যে সিলেট বিভাগে ২ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২১৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। ২০১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। ৭৩৩ জনের
মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬৩টি শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৬৭ জন আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৫। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৯৪১ জন। সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৫৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন ২৪৯ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৩ জন আর রংপুর বিভাগে ৩ জন। রাজশাহী, বরিশাল আর সিলেট এই ৩ বিভাগে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ৫৯। তাদের মধ্যে নারী ৩৭ জন বা ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পুরুষ ২২ জন বা ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৮, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৭ জন ও সিটি করপোরেশনের বাইরে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ১০, বরিশালে ৭, ময়মনসিংহে ৬, চট্টগ্রামে ৫, রাজশাহীতে ৩ এবং রংপুর ও সিলেটে ১ জন করে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৬৫৮ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩১৮ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮১ জন। সবচেয়ে বেশি ৫০৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে। এছাড়া বরিশালে ২২৮, খুলনায় ১৯৬, চট্টগ্রামে ১০৮, ময়মনসিংহে ৯৬, রাজশাহীতে ৯৮, রংপুরে ৪৬ ও সিলেট বিভাগে ৫ জন চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
