×

শেষের পাতা

পোলট্রি-মৎস্য-কৃষি খাত ধুঁকছে

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে পোলট্রি খাত। তীব্র গরমে মুরগির ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালু রাখা যাচ্ছে না। ফলে বাড়ছে মুরগির মৃত্যু ও কমছে ডিম উৎপাদন। খামারিদের ওপর লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি চাপও তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খামারিদের উৎপাদন ব্যয়ে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) দাবি, ফিড, বাচ্চা, ওষুধ, ভ্যাকসিন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রায় প্রতিটি উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে। এতে খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও মুরগি ও ডিমের খামার পর্যায়ের বাজার দামের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নেই। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের আগে দেশে প্রায় দুই লাখ পোলট্রি খামারি ছিলেন। ধারাবাহিক লোকসান, উৎপাদন খরচ বাড়া, বাজারমূল্যের অস্থিতিশীলতা, সহজ শর্তে অর্থায়নের অভাবসহ নানা সমস্যায় বর্তমানে খামারির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে। অর্থাৎ, ৫ বছরের ব্যবধানে প্রায় ৬৪ হাজার খামারি এ খাত থেকে ঝরে পড়েছেন।

বিপিআইএর যুগ্ম মহাসচিব আলমগীর হোসেন বলেন, ডিম উৎপাদনকারী খামারিরা টানা দুই বছর ধরে লোকসানে আছেন। লোডশেডিং তাদের ব্যয়ের তালিকা আরো বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আগে কোনো খামারির মাসে জেনারেটরের পেছনে দুই হাজার টাকা খরচ হলে, এখন তা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গ্রামে একেবারেই বিদ্যুৎ থাকে না। এর ফলে খামারিরা শুধু আর্থিক নয়, সামাজিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কক্সবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী, বরিশাল ও পটুয়াখালীর মৎস্য খাত। এখন ইলিশ ধরার মৌসুম। সাগর থেকে ধরা মাছ সংরক্ষণে এ সময়ে বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন হয়। একটি ব্লক বরফ তৈরি করতে টানা ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বরফ কলগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে পারছে না। ফলে বরফ তৈরি করতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। কোথাও কোথাও অর্ডারও বাতিল করতে হচ্ছে। বরিশালের কেডিসি এলাকার বরফকলের শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে বরফকলগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ১৫০ টাকার একটি বরফের ক্যান এখন ৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, আবার ট্রলার ও বরফকলের মালিকদেরও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। দেশে মোট ১০৫টি হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয় খুলনার বিভিন্ন কারখানায়। খুলনার উপকূলীয় এলাকায়ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে চিংড়ি চাষে। পাইকগাছা ও কয়রার চাষিরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরের এয়ারেটর চালানো যাচ্ছে না। এতে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে চিংড়ি মারা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) পরিচালক এস. হুমায়ুন কবীর বলেন, চিংড়ি পচনশীল পণ্য। সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপেই বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ঘেরের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সারাক্ষণ বিদ্যুৎচালিত এয়ারেটর ব্যবহার করতে হয়। লোডশেডিং হলে উৎপাদন কমে যায়, কখনো কখনো সব মাছও মারা যেতে পারে। এখন চিংড়ি চাষের ভরা মৌসুম হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব আরো বেশি অনুভূত হচ্ছে।

অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে কৃষিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে সেচ নিয়ে। বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে সেচ দেয়া কৃষকদের বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা বলছেন, সময়মতো পানি দিতে না পারলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগারগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। আবার জ্বালানি তেলের দামও বেশি।

চলমান সংকট প্রসঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, আমরা সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছি। কৃষি খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে কাজ করছি। কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে ধাপে ধাপে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা সৌরচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ বিতরণ শুরু করে দিয়েছি। পেঁয়াজ সংরক্ষণের এয়ার ফ্লোতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার খবর শুনে আমরা ওই মেশিনকে সোলারে রূপান্তরের কাজ করছি। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরো লাভজনক হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মাদকের তথ্য পেতে থানায় ‘অভিযোগ বক্স’

মাদকের তথ্য পেতে থানায় ‘অভিযোগ বক্স’

প্রেমিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রেমিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App