শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দেশের অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ দিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই বিশেষ দিনে আমরা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অশ্রু মোছার উদ্যোগ নিয়েছি।’
আরও পড়ুন: ১৮ বছরের জঞ্জাল পাঁচ মাসে পরিষ্কার সম্ভব নয়: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
তিনি বলেন, একসময় বিপুল অর্থ ব্যয়ে এ দিনটি উদযাপন করা হতো। আর এবার একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের জন্য ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, শনিবার সারাদেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর সুবিধার অংশভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। জাতির ইতিহাসে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ’ আয়োজন শেষ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কারিগরি শিক্ষা মেলা ও সংশ্লিষ্ট কিছু কার্যক্রমও সময়ের অভাবে সম্পন্ন করা যায়নি। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। তবে অবশিষ্ট অর্থ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্যও আসছে।
আরও পড়ুন: ‘সম্পর্কে থাকাকালে ওজন কমে, বমিও হতো’
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে আটটি ব্যাংকে প্রায় ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা রাখা হয়েছিল, যেসব অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে সরকারি ব্যাংকগুলোতে থাকা কিছু অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যে ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশ হারে অনুদান দিচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রী যে বন্ড কেনার অর্থ দিয়েছেন, সব মিলিয়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ড সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ থেকে পাওয়া আয় কাজে লাগিয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধাভোগীর কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী বছর অবশিষ্ট অর্থও পরিশোধ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ জাতির দীনতার প্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, যারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শিক্ষা দিয়ে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখেন, তাদের অবসরের পর কেবল আনুষ্ঠানিক বিদায় দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যায় না।
তিনি জানান, একসময় অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের বিদায় অনুষ্ঠানে মানপত্রের পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষকদের টুপি, পাঞ্জাবি, ছাতা, লাঠি, কোরআন শরিফ ও তসবিহ দেওয়া হতো। কিন্তু শিক্ষকদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল।
মন্ত্রী বলেন, এ উপলব্ধি থেকেই বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে কল্যাণ ট্রাস্টে ১৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ৮৯ কোটি টাকা দিয়ে এ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করেছিলেন। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেসরকারি শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন এবং শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের সম্মাননা ও কল্যাণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
