হাম উপসর্গে প্রাণহানি হলো আরো ৪ জনের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি।
গতকাল শুক্রবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে তারা সবাই হামের উপসর্গে মারা গেছে। নিশ্চিত হামে কারোর মৃত্যু হয়নি। মৃত ৪ জনের মধ্যে সিলেটে ২ জন, ঢাকায় ১ আর চট্টগ্রাম বিভাগে ১ জন শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৯ শিশু। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮৭ জনের। হাম উপসর্গ ছিল ৯৭২ জনের মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৯৪ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৯৫ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৮ জন। আর এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৭৩০ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে
১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কারোর মৃত্যু হয়নি। তবে একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৭ জন, খুলনা বিভাগে ৮ জন, রংপুর বিভাগে ৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১২ জন রয়েছেন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে মোট ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন ও জুলাইয়ে ৩৬ জন ও আগস্টে ১৩ দিনে ১১ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন। আর বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৩০ জন মারা গেছেন। খুলনা বিভাগে ১৩ জন ছাড়াও বরিশাল বিভাগে ৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে ১ জন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৪৪৩ জন। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১ হাজার ৬১৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
