হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে ৯ জনের প্রাণহানি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামের উপসর্গে ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৬ জন হামের উপসর্গে আর বাকি ৩ জন এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
গতকাল রবিবার হাম ও ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে তারা সবাই হামের উপসর্গে মারা গেছে। নিশ্চিত হামে কারোর মৃত্যু হয়নি। মৃতদের মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিভাগের বাকি ৩ জনের মধ্যে সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০১টি শিশু। ৮০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২১। এই সময়ে ৯৬৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫০টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯০৮টি শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৯ শিশু আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৮০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিস মশাবাহী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের সবাই ঢাকা বিভাগের। এই সময়ে নতুন করে ৮০৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮০, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১২, খুলনা বিভাগে ৯৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৫, রংপুর বিভাগে ৭ ও সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত রোগটিতে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসে ১৬ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৯৭৮ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে ৮ হাজার ৬৬৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ১৫৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১ হাজার ৭৪৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪ শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
