শাহ আমানত বিমানবন্দর নিয়ে পাঁচ সুপারিশ চিটাগাং চেম্বারের
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর রূপান্তরের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পাঁচটি সুপারিশ করেছে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। গত শনিবার ওই চিঠিতে ২৪ ঘণ্টা বিমানবন্দর পরিচালনা, আন্তর্জাতিক রুটে ৪০ শতাংশ প্রণোদনামূলক ট্যারিফ নির্ধারণ, দূরপাল্লার ফ্লাইটে বিরতির সময় যাত্রী ওঠানামার সুযোগ, দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং সুবিধা এবং বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
সুপারিশগুলো হলো- বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া, আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ৪০ শতাংশ প্রণোদনামূলক ট্যারিফ নির্ধারণ, দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে বিরতির ক্ষেত্রে যাত্রী ওঠানো ও নামানোর সুবিধা দেয়া, সক্ষমতা বাড়িয়ে দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং সুবিধা নিশ্চিত করা, এবং বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) অথবা বিল্ড-অপারেট-ওন (বিওও) পদ্ধতিতে কার্গো ভিলেজ ও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপন করা।
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক গতকাল বলেন, চট্টগ্রামকে বাস্তবিক অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী এবং রিজিওনাল বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সমাজের এসব প্রস্তাব বিবেচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য চিঠিতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছি।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ পাইকারি বাজার, একাধিক বৃহৎ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ শিল্প-কারখানা এই অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ কেন্দ্র। কিন্তু দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রয়োজনীয় প্রায় সব অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবেচনায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার আজ অবধি নিশ্চিত করা হয়নি।
চেম্বারের মতে, বর্তমান অবকাঠামো ও সক্ষমতা ব্যবহার করেই বিমানবন্দরটিতে আরো বেশি যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের পাশাপাশি ট্রানজিট ও কানেক্টিং ট্রাফিক আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ঢাকাকেন্দ্রিক এভিয়েশন ট্রাফিকের ওপর অতি নির্ভরতা ও চাপ কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ইস্ট-ওয়েস্ট এভিয়েশন, ট্যুরিজম ও লজিস্টিক গেটওয়ে বা ব্রিজিং পয়েন্ট হিসেবে পরিণত করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে
বলে ব্যবসায়ীরা মনে করে।
প্রণোদনামূলক ট্যারিফের প্রস্তাবের পক্ষে মোংলা বন্দরের উদাহরণ তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, মোংলা বন্দরের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও এর সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার মোংলা বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যান এ চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও অধিক ট্র্যাফিক আকর্ষণ করে পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অধিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এর জন্যেও প্রণোদনামূলক বা রেয়াতি ট্যারিফ নির্ধারণ করা জরুরি।
চিটাগাং চেম্বার বলছে, পতেঙ্গা এলাকায় বড় পরিসরের জমিতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত বিমানবন্দর- উভয়ের জন্য কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় এ সব স্থাপনাসহ যে অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, তাতে বেসরকারি খাত বা ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়নে সক্ষম ও ইচ্ছুক।
