মাগুরার মাটিতে জাপানের জাতীয় ফল
দীপক চক্রবর্তী, মাগুরা থেকে
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ায় যে বিদেশি ফল-ফসল উৎপাদন হয় তা অনেক আগেই ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল ও ফলদ বৃক্ষ তা জানান দিয়েছে। কিন্তু একটা দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে অন্য দেশের আবহাওয়ার মিল না থাকলেও, সেই দেশের ফলদ বৃক্ষ যে অন্য দেশে ও অন্য আবহাওয়ায়ও জন্ম নেয়, তার এক অনন্য উদাহরণ সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের জাতীয় ফল ‘পার্সিমন’। এই প্রথমবারের মতো মাগুরার মাটিতে সফলভাবে ফলেছে জাপানি ফলটি। মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারে ঝুলছে থোকায় থোকায় এই মনোমুগ্ধকর ফল, যা স্থানীয় কৃষি ও অর্থনৈতিক খাতের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
সরজমিন মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় ঝুলছে অসংখ্য ফল পার্সিমন। কাঁচা অবস্থায় ফলটি সবুজ হলেও তা ধীরে ধীরে সোনালি-হলুদ এবং পুরোপুরি পাকার পর গাঢ় কমলা রং ধারণ করে বলে হর্টিকালচার কর্তৃপক্ষ জানান। দেখতে অনেকটা দেশি গাব কিংবা টমেটোর মতো হলেও এর স্বাদ ও গুণাগুণ অনন্য। সাধারণত গাছে ফুল আসে মার্চ-এপ্রিল মাসে এবং আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ফল পরিপক্ক হয়। প্রতিটি ফলের ওজন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
হর্টিকালচার সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে নাটোরের একটি প্রজেক্ট থেকে পার্সিমনের মাত্র একটি চারা সংগ্রহ করে রোপণ করা হয়। চার বছর ধরে পরিচর্যার পর চলতি বছর গাছটিতে প্রথম ফলন আসে। ‘হার-মোফ্রোডাইট’ জাতের একক এই মাতৃগাছটি থেকেই এবার ৪০ থেকে ৪৫ কেজি পার্সিমন উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতি কেজি পার্সিমন এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃপক্ষ এখন ফল বিক্রি করছে না। বরং এই ফলের বীজ থেকে মানসম্মত চারা উৎপাদনের নিবিড় চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, পার্সিমন ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’-এর এক অপূর্ব উৎস। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও কপার। কম ক্যালরিযুক্ত এই ফলে বিদ্যমান ‘পেকটিন’ নামক উপাদান উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তের শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি হৃৎপিণ্ড, কিডনি ও ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
সময়োপযোগী স¤প্রসারণ ও চারা বিতরণের মাধ্যমে অচিরেই জাপানের এই দামি ও পুষ্টিকর ফল এদেশের সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।
মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ, কৃষিবিদ মো. আব্দুস সামাদ বলেন, মাগুরার মাটি ও আবহাওয়া পার্সিমন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি বছর ফলন আশানুরূপ হয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। পার্সিমন একটি উচ্চমূল্যের ফল এবং এটির বাজার সম্ভাবনাও ভালো। চলতি বছর ভালো ফলন পাওয়ায় আমরা এ বছর থেকেই স্থানীয়ভাবে পার্সিমনের চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেব। মানসম্মত চারা উৎপাদন সফল হলে পর্যায়ক্রমে এর চাষ বাণিজ্যিকভাবে কৃষকদের মাঝে স¤প্রসারণ করা সম্ভব হবে। উচ্চমূল্যের ও লাভজনক এ ফলের বাণিজ্যিক চাষ কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
