সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল ফের প্রকাশ হবে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২০২৩ সালে কোটার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেয়া সহকারী শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর ফল মেধার ভিত্তিতে পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ১৫১ জন রিট পিটিশনারকে সহকারী শিক্ষক পদে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।
তাজুল ইসলাম বলেন, প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে ২০২৩ সালে একটি সার্কুলার হয়েছিল। সেই সার্কুলার অনুযায়ী তখনকার সময়ে বিদ্যমান যে কোটা পদ্ধতি ছিল, সেখানে ৮৪ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়েছিল। সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে ১৫১ জন রিট পিটিশনার হাইকোর্ট ডিভিশনে মামলা করেছিলেন যে, জুলাই আন্দোলনের পরে সুপ্রিম কোর্টের যেহেতু একটা জাজমেন্ট হয়েছে যে, সেখানে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগটা হবে এবং মেধা হবে ৯৩ শতাংশ, তার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া উচিত। এই মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট ডিভিশন ওই নিয়োগটিকে অবৈধ ঘোষণা করে ১৫১ জনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সরকার আপিল দায়ের করেছিলেন। সেই আপিলটি আজকে শুনানি অন্তে চূড়ান্ত রায় হয়েছে। আপিল ডিভিশন সেই রায়ে ৩টি অবজারভেশন দিয়ে আপিলটিকে নিষ্পত্তি করেছেন।
প্রথম নির্দেশনা : যে ১৫১ জন রিট পিটিশনার যারা ছিলেন, তাদের আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
দ্বিতীয় নির্দেশনা : যে ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থী সেই সময়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু রেজাল্ট পাবলিশড হয়েছিল তখন বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুযায়ী। সুপ্রিম কোর্ট আজকে রায় দিয়েছেন যে, পুনরায় এই ৪৬ হাজার ১৯৯ জনের রেজাল্ট সুপ্রিম কোর্টের কোটার বিরুদ্ধে যে রায়টা ছিল অর্থাৎ সিপি নম্বর ২৫১৬ অব ২০২৪-এ কোটাকে বাতিল করে যে রায়টা দিয়েছিল- সেই রায়ের আলোকে এই রেজাল্টটা পুনরায় প্রকাশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
তৃতীয় নির্দেশনা : যে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলাকালীন সময় যারা এরই মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন- ৬ হাজার ৫৩১ জন শিক্ষক, তাদের নিয়োগটা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত বহাল রাখতে বলেছেন।
এই রায়ের মাধ্যমে কোটা পদ্ধতির ব্যাপারে বাংলাদেশের আগের যে কোটা পদ্ধতি ছিল সেটা বাতিল হলো এবং নতুন করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়টা পুনরায় বলবৎ করা হলো।
