৮৬ বছরের অপেক্ষা শেষে ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ভ্যাঙ্কুভারের মাঠে শক্তি, শৃঙ্খলা ও কৌশলগত ফুটবলের দারুণ প্রদর্শনীতে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। পুরো ম্যাচে বলের দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সুযোগ তৈরি, আক্রমণের ধার এবং রক্ষণে দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষকে স্পষ্টভাবেই ছাপিয়ে যায় মুরাত ইয়াকিনের দল। ব্রিল এমবোলো ও দান এনদোয়ের দুই গোলের সুবাদে শুধু নকআউট পর্বে জায়গাই নিশ্চিত করেনি সুইসরা, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও লিখেছে নতুন অধ্যায়। ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো টানা তিনটি বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ছিল সুইজারল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি। যদিও ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পেয়েছিল আলজেরিয়া। রাফিক বেলগালির ক্রস থেকে রিয়াদ মাহরেজ বল ছেড়ে দিলে হোসাম আওয়ারের সামনে সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু তার শট লক্ষ্যে ছিল না। সেই সুযোগ হাতছাড়া করার মূল্য দিতে বেশি সময় লাগেনি। ১১ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে এগিয়ে যান তরুণ জোহান মানজাম্বি। বাইলাইন থেকে তার নিখুঁত কাটব্যাক পেয়ে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে সহজ ফিনিশে বল জালে পাঠান ব্রিল এমবোলো। এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড।
প্রথমার্ধে আলজেরিয়া বলের দখলে সামান্য এগিয়ে থাকলেও সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগের জমাট খেলায় বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে মাহরেজের ক্রস থেকে ইব্রাহিম মাজা সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েই বিরতিতে যায় সুইসরা। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার এক মিনিটও পার হয়নি, এর মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সুইজারল্যান্ড। নিজেদের পেনাল্টি বক্সে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডারদের পরপর দুইবার বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগান দান এনদোয়ে। কিছুটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে শক্তিশালী শটে গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পরাস্ত করে দলের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আলজেরিয়া। ৫০ মিনিটে মাহরেজের শট সুইস এক ডিফেন্ডার গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিলে ব্যবধান কমানোর সম্ভাবনা নষ্ট হয়। এরপরো আলজেরিয়া বলের দখল ধরে রাখলেও সুইজারল্যান্ডের সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙার মতো কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি।
অন্যদিকে ব্যবধান আরো বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল সুইজারল্যান্ড। ৮১ মিনিটে ফাবিয়ান রিডার প্রায় ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। একই সময়ে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুর্দান্ত দুটি সেভ করে দলের বড় পরাজয় এড়ান। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই শুধু ব্যবধান কম রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
মাঝমাঠে গ্রানিত জাকা ও রেমো ফ্রয়লারের অভিজ্ঞতা ম্যাচের অন্যতম পার্থক্য গড়ে দেয়। তাদের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলে আলজেরিয়ার ছন্দ বারবার ভেঙে যায়। তরুণ মানজাম্বির গতিময়তা এবং এমবোলো ও এনদোয়ের কার্যকর ফিনিশিংও সুইজারল্যান্ডের জয়কে সহজ করে তোলে। পরিসংখ্যানেও সুইসদের আধিপত্য স্পষ্ট। তারা ১১টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যার দুটি গোল হয়ে জালে জড়ায়। আলজেরিয়া আটটি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারে মাত্র দুটি। বলের দখলে এগিয়ে থেকেও সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে না পারায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় মাহরেজদের।
এই জয় সুইজারল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস আরো উঁচুতে নিয়ে গেছে। ভ্যাঙ্কুভারেই আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে তারা। বর্তমান ছন্দ, সংগঠিত রক্ষণ এবং কার্যকর আক্রমণ বিবেচনায় নকআউট পর্বেও সুইজারল্যান্ডকে শক্তিশালী প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
