খামেনির জানাজায় ৭০ দেশের অংশগ্রহণ, বন্ধুরাষ্ট্রদের ছাড় ঘোষণা ইরানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নতুন সার্ভিস ফি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইরান বলেছে, চলমান সংকটে যেসব দেশ তাদের পাশে ছিল, সেসব দেশের জন্য বিশেষ সুবিধা বিবেচনা করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন আরব দেশের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তিনি বলেন, এ অংশগ্রহণ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে থাকবে।
এদিকে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নতুন সার্ভিস ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে তেহরান। তবে যেসব দেশ সাম্প্রতিক সংকটে ইরানকে সমর্থন দিয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তাই ওই এলাকায় নিরাপত্তা, নৌযান ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নতুন সার্ভিস ফি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো টোল বা অতিরিক্ত কর নয়। বরং প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা, জাহাজের গতিবিধি তদারকি করা এবং অতিরিক্ত সামুদ্রিক চলাচলের কারণে পরিবেশগত ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, হরমুজ প্রণালির নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ইরান। দুই দেশের সহযোগিতার ভিত্তিতে এ জলপথের নিরাপত্তা ও পরিচালনা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সার্ভিস ফি আরোপের পরিকল্পনার বিরোধিতা করলেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আওতায় প্রথম ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। তবে ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী ধরনের নীতিমালা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সংকটকালে যেসব দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছিল, নতুন সার্ভিস ফি কার্যকর হলে তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
