বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে কিউবা দখল করব, আলোচনা চলছে: ট্রাম্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্র কিউবাকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল করার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা জানান ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেন, প্রয়াত ফিদেল কাস্ত্রোর দেশটির সঙ্গে এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের কিছু আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কিউবা কর্তৃপক্ষ তার এই দাবিকে স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, কিউবা ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। কিউবার সরকার আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। তারা এখন বড় সমস্যায় আছে। তাদের কাছে টাকা নেই। কিছুই নেই। তবে তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। সম্ভবত আমরা কিউবার বন্ধুত্বপূর্ণ দখল নেব।
ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও এ বিষয়ে হাভানার সমাজতান্ত্রিক সরকারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। তিনি কিউবাকে পতনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরো পড়ুন : মার্কিন শর্ত মানতে রাজি নয় ইরান, সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকারের পতনের পর থেকেই কিউবার দিকে ট্রাম্পের নজর পড়েছে বলে লাতিন আমেরিকায় জল্পনা ছড়িয়েছিল। ট্রাম্পের নতুন দাবির পরে তা আরো জোরালো হয়েছে। যদিও শনিবার কিউবার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো পর্যায়ে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও আলোচনা নেই।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কিউবা এবং যুক্তরাষ্ট্র শীতল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। পঞ্চাশের দশকে কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর কিউবা আমেরিকার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে। কাস্ত্রোর মৃত্যুর পরে এই উত্তেজনা অনেকাংশে প্রশমিত হয়।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে জানান, কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না- শূন্য! দেরি হওয়ার আগে আমি তাদের একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি। মার্কো রুবিও কিউবার বিষয়ে ‘বিশেষ উৎসাহী’ বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, রুবিওর পরিবার পঞ্চাশের দশকে কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্থায়ীভাবে চলে এসেছিল এবং তিনি বহুবার কাস্ত্রোর নেতৃত্বকে ‘খুনি ও স্বৈরাচারী’ বলে অভিহিত করেছেন।
