ফাইনালের ট্রফি মঞ্চে ফিফার প্রটোকল ভাঙতে পারেন ট্রাম্প
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ক্লাব বিশ্বকাপের সেই অস্বস্তিকর দৃশ্য কি এবার বিশ্বকাপ ফাইনালেও দেখা যাবে? ২০২৬ ক্লাব বিশ্বকাপে ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে ট্রফি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চেলসি ফুটবলারদের সঙ্গে ট্রফিও উদযাপন করেছেন। এবার বিশ্বকাপ ফাইনালেও দেখা যেতে পারে একই দৃশ্য। ট্রাম্প ১৯ জুলাই ফাইনালে ফিফার প্রচলিত ট্রফি প্রটোকল ভাঙতে পারেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টকস্পোর্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার আপত্তি নেই যদি ট্রাম্প বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে সরাসরি ট্রফি তুলে দেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রফি তুলে দেওয়ার পর তিনি চাইলে জয়ী দলের উদ্যাপনের মাঝেও থাকতে পারেন। বিষয়টি ট্রাম্পের নিজের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে পারে ফিফা।
সাধারণত বিশ্বকাপের ট্রফি উপস্থাপনের একটি নির্দিষ্ট প্রটোকল থাকে। ট্রফি সাধারণত একটি বিশেষ বেদিতে রাখা হয়। পরে জয়ী দলের একজন সদস্য সেটি নিয়ে উদ্যাপনের মঞ্চে যান, অধিনায়ক ট্রফি তুলে ধরেন এবং খেলোয়াড়রা দলীয়ভাবে শিরোপা উদ্যাপন করেন। রাষ্ট্রপ্রধান বা আমন্ত্রিত অতিথিরা ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন, কিন্তু জয়ী দলের উদ্যাপনের কেন্দ্রে সাধারণত থেকে যান না।
ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সেই প্রথা ভাঙার সম্ভাবনাই এখন আলোচনায়। টকস্পোর্টের দাবি, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে জানিয়ে দিয়েছেন, ফাইনালের ট্রফি উপস্থাপনায় তিনি নিজের মতো করে অংশ নিতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চাইলে জয়ী অধিনায়কের হাতে সরাসরি ট্রফি তুলে দিতে পারেন এবং মঞ্চে থেকে উদ্যাপনের অংশও হতে পারেন।
এমন দৃশ্য একবার দেখা গেছে গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে। চেলসি ফাইনালে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পর ট্রফি মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। চেলসি অধিনায়ক রিস জেমস যখন ট্রফি তুলছিলেন, তখন তার পাশেই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। চেলসির কয়েকজন খেলোয়াড়ের মুখে তখন বিস্ময়ও দেখা গিয়েছিল। কোল পালমারের বিভ্রান্ত মুখভঙ্গি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনফান্তিনো শুরুতে ট্রাম্পকে সরে যেতে ইঙ্গিত করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প মঞ্চেই ছিলেন। সেই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠেছিল—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এমন কিছু হলে সেটি কতটা স্বাভাবিক দেখাবে?
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে, যা সাধারণ সময়ে মেটলাইফ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। ট্রাম্পের সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচে থাকতে পারেননি সূচিগত ব্যস্ততার কারণে। তবে ফাইনাল ছাড়াও টুর্নামেন্টের আরও কয়েকটি ম্যাচে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে টকস্পোর্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। তাই ফাইনালের সমাপনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকো ও কানাডার কর্মকর্তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে থাকছেন ট্রাম্পই।
এই বিশ্বকাপ শুরু থেকেই নানা বিতর্কে ঘেরা। টিকিট ও স্টেডিয়ামে খাবারের বাড়তি দাম নিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ আছে। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপ নিয়েও প্রশ্ন আছে। ইরানকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সোমালি রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার না পাওয়া—সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের ঘটনাও বারবার শিরোনাম হচ্ছে।
তার মধ্যেই ট্রফি উপস্থাপনায় ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভূমিকা নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ফিফা সব সময় রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা বললেও বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি স্বাভাবিক বিষয়। তবে জয়ী দলের উদ্যাপনের কেন্দ্রে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকলে সেটি ফুটবলীয় প্রটোকল ও প্রতীকের দিক থেকে অস্বস্তিকর মুহূর্ত তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে বিশ্বকাপের ট্রফি তোলা ফুটবলারদের জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলোর একটি। সেই মুহূর্তে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যদি মঞ্চ ছাড়তে না চান, তাহলে ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে দল নয়, অতিথি চলে আসার ঝুঁকি থাকে। ক্লাব বিশ্বকাপে সেটিই হয়েছিল বলে অনেকের মত।
অন্যদিকে ফিফার অবস্থান থেকে বিষয়টি কূটনৈতিকও। যুক্তরাষ্ট্র এই বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক দেশগুলোর একটি। ট্রাম্প প্রশাসন টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা, ভিসা ও আয়োজন-সম্পর্কিত নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই ফাইনালের মতো অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত নয়।
তবে প্রশ্ন থাকবে—ফিফা কি আবারও ট্রফি মঞ্চকে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিণত হতে দেবে? নাকি ক্লাব বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকে এবার অনুষ্ঠান আরও নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে?
