মেটাকে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি জরিমানা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। নতুন রায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে একই মামলায় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকার সমান।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড এই রায় দেন। শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক জরিমানা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রায়ে বিচারক বলেন, মেটার কার্যক্রম সমাজের জন্য এমন ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে, যা একটি বড় ধরনের জনদুর্ভোগের সঙ্গে তুলনীয়। তিনি নির্দেশ দেন, জরিমানার অর্থ ভবিষ্যতে শিশুদের সুরক্ষা ও ক্ষতি প্রতিরোধে গঠিত বিশেষ তহবিলে জমা রাখতে হবে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও উল্লেখ করেন, মেটার বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট তাদের ব্যবসার মূল পণ্য হলেও, শিশুদের মানসিক ক্ষতি এবং যৌন শোষণের ঝুঁকি শিল্পকারখানার দূষণের মতোই ক্ষতিকর, যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মেটার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং থ্রেডস। নতুন এই রায়ের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আগের ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছিল মেটা।
২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল এ মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের যৌন হয়রানিকারীদের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়িয়েছে এবং তাদের সামনে যৌন স্পষ্ট কনটেন্ট প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করেছে।
মামলার প্রথম ধাপের রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদম অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের বারবার ক্ষতিকর কনটেন্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগের দিকে পরিচালিত করেছে, যা অঙ্গরাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে।
দ্বিতীয় ধাপের রায়ে আদালত মন্তব্য করেন, মেটার কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘জনদুর্ভোগের কারণ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিশু সুরক্ষা ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় আর্থিক জরিমানা। একই সঙ্গে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে প্রথমবারের মতো আদালত ‘জনদুর্ভোগের কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করল।
