বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর আরোপ করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ফেডারেল আদালতের এক রায়ের পর গত ২১ আগস্ট থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।
২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়া আবার স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কেন ভিসা স্থগিত করা হয়েছিল
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথও খুলে যায়।
তখন মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। তাই তাদের বিষয়ে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সেই যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছিল।
আদালতের রায়ে পরিবর্তন
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (CLINIC)। মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিবাদী করা হয়।
নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস মামলাটির রায় দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, শুধু নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ আগস্ট থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুর ওপর আরোপ করা স্থগিতাদেশ শেষ হয়ে যায়।
আবেদনকারীদের জন্য কী সুযোগ
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়া আবার চালু হতে পারবে। তবে আবেদনকারীদের অন্যান্য স্বাভাবিক ভিসা শর্ত পূরণ করতে হবে।
স্থগিতাদেশ চলাকালে আগে যেসব ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করা হয়নি। একই সময়ে নতুন আবেদন জমা দেওয়া ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগও ছিল। মূলত ভিসা আবেদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভিসা ইস্যুর ওপর স্থগিতাদেশ কার্যকর ছিল।
যেসব দেশ রয়েছে তালিকায়
বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।
ফলে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
