পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।
পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে পরীমণি বুধবার আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করার আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলার বাদী নাসির উদ্দিন আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
এর আগে পরীমণির পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে পরীমণি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। সময় না দিলে তাঁর অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে পরীমণিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য বাদীকে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথা ও বুকে আঘাত পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি ও ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এরপর গত বছরের ২৬ জানুয়ারি পরীমণি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
এদিকে একই ঘটনায় পরীমণিও সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
