তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ফের রিমান্ডে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশার (১৯) আবারও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন দিশা। এর আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে’ গিয়েছেন। এ ছাড়া মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও দিশাকে দেখা গেছে। তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানেও ঘোরাঘুরি করেছেন তিনি।
আবেদনে আরও বলা হয়, তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনা করে ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যার স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারের জন্য দিশাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি মামলার অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে।
যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাতে বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় তার মা ফোন করলে কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা জানান তিনি।
রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ফোন থেকে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। তবে এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
