একাদশে ভর্তির নতুন আবেদনের সুযোগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আবারও সুযোগ এসেছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারেননি, তারা ফের আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পুনর্নিরীক্ষণের পর ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এবং আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত এই আবেদন করার সুযোগ থাকবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি নতুন করে ভর্তির প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তিত হয়েছে, তাদের সংশোধিত ফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে।
এ কারণে আগে আবেদন না করা শিক্ষার্থীরা এখন নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর যারা এরই মধ্যে আবেদন করেছিলেন, তারা নিজেদের আবেদন সংশোধন বা পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে, গত ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যারা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেননি, তারাও ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি আবেদন শুরু হয়েছিল গত ২ সেপ্টেম্বর। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এ জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
আরো পড়ুন: তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব
একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দের তালিকায় রাখতে পারবেন। আবেদনকারীরা শনিবার ও রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত নিজেদের পছন্দক্রম পরিবর্তন করতে পারবেন। অনলাইন আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি ২২০ টাকা।
প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। নির্বাচিতদের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে ওই শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে। ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, যে বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে, সেই বছর এবং তার আগের দুই বছরের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।
বিদেশি শিক্ষাবোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণ করতে হবে। সমমান নির্ধারণের পর তারা ভর্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণরা বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগে ভর্তির পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করতে পারবেন। আবার সব বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। এবার প্রতিটি কলেজের মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন রাখা হয়েছে। মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের প্রতিষ্ঠানে এ দুই ক্যাটাগরিতে মোট ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট আসন মেধাতালিকার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য কার্যকর থাকবে।
একাধিক শিক্ষার্থী একই জিপিএ পেলে মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাওয়া মোট নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে।
আরো পড়ুন: পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দেরি, নেপথ্যে কী?
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এ ছাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরের বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের জন্য সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
অন্যান্য মহানগরে বাংলা মাধ্যমে ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা, জেলা সদরে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষার্থীকে বোর্ডের বিভিন্ন ফি বাবদ মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে, রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কোনো কলেজ শিক্ষার্থীর টিসি ইস্যু কিংবা ভর্তি করতে পারবে না। একইভাবে অনুমোদন না থাকা কোনো শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে কলেজের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি কিংবা এমপিওভুক্তির অনুমোদন পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট কলেজের অনুমোদিত আসন, বিভাগ ও নির্ধারিত ফি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
