সাত বছর পর দিল্লিতে শি জিনপিং, বদলাবে কি চীন-ভারত সমীকরণ?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ফাইল ছবি
সাত বছর পর ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।
শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরের বিষয়টি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এর আগে ২০১৯ সালে ভারত সফর করেছিলেন শি জিনপিং। সে সময় চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
এবারের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার দুই পরাশক্তির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চলমান প্রচেষ্টায় এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ব্রিকসের আওতায় দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শি জিনপিংয়ের আসন্ন সফর দুই দেশের মধ্যে আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যেভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুথিরা
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে ২০১৯ সালের পর তার প্রথম সফর হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক দ্রুত উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশা করা কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়ে যেতে পারে। কারণ, ব্যবসায়ীরা এখনো নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এর পেছনে রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বিনিয়োগ স্থগিত থাকা, ভিসা পেতে বিলম্ব এবং শিল্প সরঞ্জাম আমদানিতে বিধিনিষেধের মতো বিষয়।
গালওয়ানের পর সম্পর্কের উত্তেজনা কি কমবে?
২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্তের কাছে গালওয়ানে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। এরপর দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। ওই সংঘর্ষে চীনের মাত্র চারজন সেনা নিহত হয়েছিল বলে দাবি করে বেইজিং।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত বছর সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে চীনের তিয়ানজিন সফর করেন নরেন্দ্র মোদি। সে সময় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তার বৈঠকও আলোচনায় আসে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

সেই সময় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছিল।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও দিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ ভি পন্থের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভরসার যোগ্য নয়’—এমন নীতি ভারত ও চীনকে নিজেদের মতপার্থক্য কিছুটা সরিয়ে রেখে জাতীয় স্বার্থে আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগ তৈরি করেছে।
বিবিসি নিউজ হিন্দিকে হর্ষ ভি পন্থ বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশেরই একে অপরকে প্রয়োজন। সে কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই তুলনামূলক নরম মনোভাব দেখিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, চলতি মাসের ৬ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সিনিয়র সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের ফ্ল্যাগ মিটিং ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচাতে অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সীমান্তের চীনা অংশের দামাইয়ে দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গত বছর ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটও পুনরায় চালু হয়। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল করা হয়।
২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রায় পাঁচ বছর পর বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং। সে সময় লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং ২০২০ সালে শুরু হওয়া বিরোধ সমাধানে দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে স্বাগত জানান তারা।
এরপর ধারণা তৈরি হয়, ভারত-চীন সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করেছে। তবে হর্ষ ভি পন্থ মনে করেন, সীমান্ত বিরোধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি এমন কোনো বিষয়ও নয়, যাকে পুরোপুরি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তার মতে, দুই পক্ষই এখন এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে সমস্যা আর না বাড়ে এবং ২০২০ সালের মতো ঘটনা পুনরায় না ঘটে। একই সঙ্গে সীমান্তে পারস্পরিক আস্থা তৈরির চেষ্টাও চলছে। এ লক্ষ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মধ্যে বৈঠকের পর কমান্ডার পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।
ভারত-চীনের মধ্যে বড় দুই ইস্যু
হর্ষ ভি পন্থের মতে, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মোড় এলেও আস্থার ঘাটতি ও বাণিজ্য ঘাটতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে।
মিডিয়া প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শি জিনপিং এবার প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে ভারত সফর করছেন, যাদের বেশিরভাগই ব্যবসা ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত।

গালওয়ানের ঘটনার পর ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, সীমান্তে যেকোনো ধরনের সমস্যা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। এর প্রভাব পড়বে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ওপরও।
একদিকে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে ভারত। গালওয়ান সংঘর্ষের পর এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে যা বললো পাকিস্তান
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক্স, ক্যাপিটাল গুডস ও সোলার সেলসহ বিভিন্ন খাত এসব বিধিনিষেধের আওতায় ছিল।
ক্যাপিটাল গুডস বা মূলধনী পণ্য বলতে এমন ভৌত ও মানবসৃষ্ট সম্পদকে বোঝায়, যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি না করে অন্যান্য পণ্য ও সেবা উৎপাদনে ব্যবহার করে।
কয়েকটি নির্দিষ্ট শিল্পে ভারত দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ দ্রুত অনুমোদনেরও চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি স্মার্টফোন উৎপাদনের জন্য ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিস ও চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ভিভো মোবাইলের মধ্যে যৌথ উদ্যোগসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে নয়াদিল্লি।
তবে বড় কিছু বিনিয়োগ ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে এখনো বাধা রয়েছে।
ভারত সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বিওয়াইডি ও গ্রেট ওয়াল মোটরের মতো বড় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই শিথিলতা যথেষ্ট নয়। দিল্লির পক্ষ থেকে বাড়তি তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান ভারতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, সম্প্রতি কিরগিস্তানে আয়োজিত এক সম্মেলনের সময় শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। সেখানে তারা দুই দেশকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখার কথা বলেন।
দুই দেশই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের জটিল সম্পর্কের প্রভাব মোকাবিলা করছে।
হর্ষ ভি পন্থের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হয়েছে। এমনকি ইউরোপও চীনের প্রতি কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। চীনের অর্থনীতি মূলত রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় দেশটির বড় বাজার প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভারত চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ভারতের জন্য বড় সমস্যা হলো বাণিজ্য ঘাটতি, যা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ভারতীয় পণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকারও সীমিত। উৎপাদন খাতে কৌশলগত ক্ষেত্রের বাইরে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে চায় ভারত। তবে এর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রয়োজন, যাতে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে ভারত আরও এগিয়ে যেতে পারে।
পন্থের মতে, শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরে এসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
চীন কী চায়?
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং নয়াদিল্লিতে চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াং রয়টার্সকে বলেছেন, চীন অবশ্যই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি চায়। তবে ভারত এ বিষয়ে কতটা আগ্রহী, সেটিও তারা দেখতে চায়।

তবে তিনি বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে হর্ষ ভি পন্থের মতে, চীনের অর্থনৈতিক শক্তি রয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে দেশটি সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন ভারত ও চীন উভয়েই মার্কিন বাণিজ্যনীতির প্রভাব মোকাবিলা করছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়া দুই দেশের স্বার্থের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিষয়টি সহজ নয়। বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি বাজারে প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধের মতো বিষয়েও দুই পক্ষকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এসব সমস্যা কতটা সমাধান করা সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে ভারত-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে।
গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে চীন আবারও ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দুই দেশের সম্পর্কের ওঠানামার মধ্যেও এই বাণিজ্য পরিসংখ্যানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে চীনা সংবাদমাধ্যমটি। তাদের মতে, এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নতি এবং উভয় দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন।
যেসব বাণিজ্যিক বাধার সমাধান দরকার
সম্পর্কে উষ্ণতা ও উন্নতির ইঙ্গিত মিললেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের মধ্যে এখনো কিছু অচলাবস্থা রয়েছে।
গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের অ্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান আলিপের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করতে রাজি হয়নি দিল্লি। প্রস্তাবটির মাধ্যমে ভারতের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। ভারত জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগকে অনুমোদন না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার চীনের মোবাইল ফোন নির্মাতা শাওমির বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। ভারতের কার্যক্রমে কথিত অনিয়ম ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসের মাধ্যমে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। তবে শাওমি বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা আইন মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
অন্যদিকে চীনের পক্ষ থেকেও ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে।
ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্দরের সরঞ্জাম, সৌর প্যানেল ও মোবাইল উৎপাদন সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত পণ্য ভারতে বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়েছে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, সৌরশক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ চীনা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আটকে রাখা হচ্ছে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কিছু টানেল নির্মাণের যন্ত্রও এভাবে এক বছরের বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে।
হর্ষ ভি পন্থের মতে, দুই পক্ষই কিছু বিধিনিষেধ কমাতে পারে। তবে রাতারাতি পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারত চীনের অর্থনৈতিক শক্তি থেকে লাভবান হতে চায় এবং কীভাবে চীনা বিনিয়োগ আনা যায়, তা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে চীনকে দেখাতে হবে যে তারা ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে আন্তরিক। এর একটি উদাহরণ হতে পারে চীনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো।
গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্য, খনিজ সম্পদ এবং বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের প্রবেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত-চীন বাণিজ্য সহযোগিতা থেকে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাতও উপকৃত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ। সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্য ঘাটতি ও বিনিয়োগের মতো জটিল ইস্যুগুলো রাতারাতি সমাধান না হলেও, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে এই সফর।
