ভারতের পত্রিকায় সিরিজ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
‘জনগণের শক্তি নিয়েই আমি ফিরব’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
ছবি: ফাইল ফটো
ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর একসময় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এখন সেই ভাবনা বদলে গেছে। দেশের ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে’ বিশ্রামের কথা সরিয়ে রেখে, ‘জনগণের শক্তি নিয়েই নিজের দেশে ফিরে মানুষের পাশে থাকার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নয়াদিল্লি থেকে ‘এই সময়’ পত্রিকায় প্রকাশিত সিরিজ সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে এই বক্তব্য দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও অন্তবর্তী সরকারের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে মানুষের বিপদের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৮১ সালে সব হারিয়ে দেশে ফিরে এসে দেখেছিলাম, আওয়ামী লীগের কর্মীরাই আমার পরিবার। আজ সেই নেতা-কর্মীরা নির্যাতিত, জনগণের জীবন বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় আমি কীভাবে নিশ্চুপ থাকতে পারি?’
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গেই প্রশ্ন উঠলে তিনি স্পষ্ট করেন, জয়ের মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত দীর্ঘদিনের অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে বর্তমান সংকটেই ভাবনা বদলে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক নয়। গণতন্ত্র হুমকির মুখে, আওয়ামী লীগের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার আইন করা হয়েছে। নেতা-কর্মীরা জেলে, অনেকে বাড়ি ছাড়া। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে রাষ্ট্রকে ১৯৭১-এর চেতনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমন সময়ে আমি কীভাবে বলি যে আমি বিশ্রামে যাচ্ছি?’
তিনি আরও বলেন, তিনি ক্ষমতা চান না, কিন্তু মানুষের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর পক্ষপাতী নন। শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা, তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সব নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিত করা এবং আওয়ামী লীগের তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার পরই আমি অবসর নেব।’
পরবর্তী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার নয়। আওয়ামী লীগ কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়, এটি গণতান্ত্রিক দল। কাউন্সিলের মাধ্যমে কর্মীদের মতামত, যোগ্যতা ও আদর্শের ভিত্তিতেই পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাঁরা কঠিন সময়ে সংগঠন ধরে রাখতে পারেননি, তাঁদের বিষয়ে দলীয় কাঠামোতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে প্রবীণ নেতাদের অবদান ও ত্যাগ কখনো উপেক্ষা করা যাবে না।
শেখ হাসিনা এও জানান, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে সংগঠিত করে তরুণ, দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নেতৃত্ব তৈরির পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তরুণ নেতারা ইতিমধ্যেই নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগের পতাকা উঁচিয়ে রেখেছেন। তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ।’
ফিরে আসা প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানি শাসকরা পারেনি, সামরিক শাসকেরা পারেনি, খুনিরা পারেনি, বিএনপি সরকারও পারেনি আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে। আমার প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত কিছু নয়, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রশ্ন। জনগণ বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগই তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সেই জনগণের শক্তি নিয়েই আমি ফিরব, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার গর্ব ও দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে।’
