বিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৯, আত্মগোপনে চিহ্নিত অপরাধীরা
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ফাইল ছবি
বরিশাল মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের মুখে নগরীর চিহ্নিত ও শীর্ষ অপরাধীদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কৌশল পরিবর্তন করে অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিএমপির তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীর চার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক আভিযানিক টিম পাঁচ দিনের এসব অভিযান পরিচালনা করে। ১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় দুজন, নিয়মিত মামলায় দুজন, অন্যান্য আইনে একজন এবং মহানগর অধ্যাদেশে চারজনসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২ সেপ্টেম্বরও একইভাবে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা, যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
৩ সেপ্টেম্বর অভিযানে ১২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় একজন এবং অন্যান্য আইনে ছয়জনসহ মোট ১০ জন গ্রেপ্তার হন।
৪ সেপ্টেম্বর ছিল পাঁচ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান। ওইদিন ২৩ পিস ইয়াবা ও নগদ ৬ হাজার ২২০ টাকাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় দুজন, নিয়মিত মামলায় ছয়জন, অন্যান্য আইনে নয়জন এবং মহানগর অধ্যাদেশে ১০ জনসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৫ সেপ্টেম্বর ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় পাঁচজন, নিয়মিত মামলায় চারজন এবং মহানগর অধ্যাদেশে তিনজনসহ মোট ১৩ জন গ্রেপ্তার হন।
বিএমপির পাঁচ দিনের পরিসংখ্যান বলছে, এ সময়ে মোট ৬৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে। অভিযানে ১৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৫০ গ্রাম গাঁজা এবং নগদ ৬ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের এই বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর নগরীর চিহ্নিত ও শীর্ষ অপরাধীদের অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকে প্রকাশ্যে চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছে। তবে গা ঢাকা দিলেও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ায় অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ দমন এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধীদের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে আত্মগোপনে থাকা অপরাধীদেরও পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তারের আওতায় আনার প্রস্তুতি রয়েছে পুলিশের।
