ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ইটের জোড়াতালি, টেকসই সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালের গৌরনদী অংশে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থানে পাথর ও বিটুমিনের পরিবর্তে ইটের টুকরো ও ইটের খোয়া দিয়ে সাময়িক সংস্কার করা হচ্ছে। এতে মহাসড়কের মেরামতকাজে নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও নির্মাণমান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে কাজের গুণগতমান যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত দেখা গেছে। বিশেষ করে বার্থী বাসস্ট্যান্ড, ইল্লা, কটকস্থল, সাউদেরখালপাড়, টরকী বাসস্ট্যান্ড, মদিনা স্ট্যান্ড, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, বেজহার, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল ও সানুহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর পিচ-পাথর জমাট বেঁধে উঁচু-নিচু অংশ তৈরি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে শ্রমিকরা ইট ভেঙে খোয়া তৈরি করে বালুর সঙ্গে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করছেন। আবার কোথাও শুধু ইটের টুকরো ফেলে গর্ত ভরাট করা হয়েছে। কিছু স্থানে ইটের সলিং করতেও দেখা গেছে। তবে ওই সময় এসব স্থানে পাথর কিংবা বিটুমিন ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, ইটের টুকরো দিয়ে গর্ত সাময়িকভাবে ভরাট করায় যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির পানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই তা সরে যায়। ফলে একই স্থানে আবার গর্ত তৈরি হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চাপে ইট ভেঙে ধুলাবালির সৃষ্টি হওয়ায় পথচারী, ছোট যানবাহনের চালক ও সড়কের পাশের ব্যবসায়ীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছিটকে যাওয়া ইটের টুকরো থেকেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে বারবার সড়ক মেরামত না করে নির্ধারিত কারিগরি মান অনুসরণ করে টেকসই সংস্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবহৃত উপকরণ, মেরামত পদ্ধতি ও কাজের গুণগতমান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ছোট-বড় গর্তে ভরে গেছে। মূল সড়কের সঙ্গে বর্ধিত অংশের উচ্চতার পার্থক্যের কারণে কম প্রশস্ত সড়কে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া থ্রি-হুইলারগুলো বর্ধিত অংশ ব্যবহার না করে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সড়কটি সম্পূর্ণভাবে বর্ধিত ও মেরামত করা হলে এবং চালকদের সচেতন করা গেলে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে মহাসড়কের কোথাও কোথাও গর্ত হয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে গর্তে ইটের গুঁড়ি ফেলে মেরামত করা হচ্ছে। এটি প্রাথমিক সংস্কারকাজ। বৃষ্টি কমে গেলে পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করে স্থায়ীভাবে মহাসড়ক সংস্কার করা হবে।
