জুলাই অভ্যুত্থান থেকে গুম-গণহত্যা, ২০২৭-এর পাঠ্যবইয়ে থাকছে নানা বিষয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি বিবেচনায় নিয়ে এসব বিষয় পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। তার অনুপস্থিতিতে সংসদে তার পক্ষে উত্তর দেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে ঢাকাকে দিল্লির বার্তা
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং এ অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা এবং গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের মতো বিষয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় পড়ার সুযোগ পাবে।
প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী দেওয়ার প্রস্তাব
রাজশাহী-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন : নতুন পে-স্কেলে পেনশন নিয়ে বড় সুখবর
এ কারণে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন পেলে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা ও সংগীত বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
২০২৬-৩১ সময়ে মাদ্রাসায় ‘মিড ডে মিল’
মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (এসইডিপি)-এর আওতায় ২০২৬ থেকে ২০৩১ সময়কালে দেশের সব মাদ্রাসায় ‘মিড ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় এবতেদায়ী মাদ্রাসাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন: ৩২ নম্বরের বাড়ির মালিক কি শেখ হাসিনা?
নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯টি।
এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৮টি, আলিম মাদ্রাসা ১ হাজার ২৮৪টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৯৯৩টি এবং কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি।
আপাতত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের পরিকল্পনা নেই
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৮৭৩টি। এসব বিদ্যালয় আপাতত সরকারিকরণের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এ বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করেন একই দলের কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলম। কম বেতনে কাজ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা জানতে চান তিনি।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে
জবাবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা আলোচনায় রাখিনি জাতীয়করণের কোনো কিছু।”
তিনি জানান, কোথায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজন এবং কোন এলাকার শিশুরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব এলাকা চিহ্নিত হওয়ার পর সেখানে নতুন সরকারি বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, নাকি কোনো বেসরকারি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার ১৬.২৫ শতাংশ
গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে সংসদে জানানো হয়, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ঝরে পড়ার হার কমাতে ‘স্কুল ফিডিং’, উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে সরকার বলে জানান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩৪৯টি উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চালু হচ্ছে মৈত্রী এক্সপ্রেস, জেনে নিন কবে
এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাগ, জুতা ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।
ববি হাজ্জাজ জানান, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সি শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে ৮ হাজার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার বছর বা তার বেশি বয়সি শিশুদের জন্যও প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই এবতেদায়ী মাদ্রাসা
সাতক্ষীরা-২ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল খালেক সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সুবিধার আওতায় এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আনা হবে কি না।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যুতে রেকর্ড আজ
জবাবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, এবতেদায়ী মাদ্রাসা বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা বা সংসদ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এলে তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাবে।
নিবন্ধনের আওতায় আসছে কিন্ডারগার্টেন
নীলফামারী-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।
