নৈশ প্রহরীদের বেঁধে রেখে সোনার দোকানসহ ৫ দোকানে ডাকাতি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার খোকসার একটি বাজারে নৈশ প্রহরী ও ব্যবসায়ীদের বেঁধে রেখে তিনটি সোনার দোকানসহ পাঁচ দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের দাবি, এটি ডাকাতি নয় শতভাগ চুরির ঘটনা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার একতারপুর বাজারে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ২০-২৫ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতি করে নির্বিঘ্নে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী ও নৈশ প্রহরীরা জানায়, রাত একটার দিকে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ডাকাত দল বাজারে হানা দেয়। তারা একে একে চারজন নৈশ প্রহরীকে ধরে এনে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের মধ্যে হাত বেঁধে বসিয়ে রাখে। এ সময় ডাকাতরা প্রানোতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সের দুটি শো রুম ও কারখানার তালা ভেঙে লকারে রাখা প্রায় ২০ ভরি রুপা, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণের পুরাতন গহনা নিয়ে যায়। রাত একটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মানিক বিশ্বাসের মানিক জুয়েলার্স, সঞ্জয় বিশ্বাসের ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, পাখি ভ্যানের মেকার হান্নান শেখ ও চায়ের দোকানি ওবায়দুলের দোকান থেকে কয়েকটি মুঠোফোন ও নগদ ১২ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়।
নৈশ প্রহরীরা আরও জানান, সশস্ত্র ডাকাত দলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য ছিলো। তাদের প্রত্যেকের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিলো। ডাকাতদের কাছে রাইফেল ও ধারালো অস্ত্র ছিলো। কারো কারো কাছে একাধিক ধারালো অস্ত্র ছিলো। তারা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রথমে নৈশ প্রহরীদের একত্রিত করে গামছা ছিঁড়ে বেঁধে ফেলে। কয়েকজন মিলে নৈশ প্রহরী ও দুই ব্যবসায়ীকে পাহারা দেয়। ডাকাত দলের কিছু সদস্য দোকান গুলোর তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে মালামাল ও নগদ টাকা লুটে নেয়। তারা চলে যাওয়ার সময় দুইজন নৈশ প্রহরীকে হাত বাঁধা অবস্থায় বাজার থেকে আধা কিলোমিটার দূরের শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী প্রানোতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধের সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে রেখে যান। তার পরেও ডাকাতরা তার দোকানের সবগুলো সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে। এ ছাড়া তার দুই শো রুম ও কারখানার লাকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরাতন গহনা, ২০ ভরি খাঁটি রুপা ও ক্যাশ ড্রয়ারের মধ্যে থাকা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একজন তাকে ফোন দিয়ে তার দোকানে ডাকাতির ঘটনা জানায়। তিনি বাজারে এসে দোকানের শাটার বন্ধ পান। পরে ভিতরের ঢুকে ডাকাতির ঘটনা টের পান।
পাখি ভ্যানের মেকার আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, ত্রিশ বছর ব্যবসা করছেন, তার সামনে এমন ঘটনা ঘটেনি। ডাকাতরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নৈশ প্রহরীদের সঙ্গ বেঁধে রাখে। তার কাছে থেকে ধারকরে আনা পাঁচ হাজার টাকা ও মুঠোফোনটি নিয়ে যায়। বাজারের পাহারা ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক গ্রাম্য চিকিৎসক ওহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারের পাঁচজন পাহারাদারের চারজনকে আটকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি করেছে। রাতেই পুলিশ এসেছিল। এখনো মামলা করা হয়নি। তবে খোকসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন দাবি করেন, একতারপুর বাজারের তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এটি শতভাগ চুরি বলে দাবি করেন তিনি
