যুবদল নেতার সঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তার অডিও ভাইরাল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভোলার মনপুরায় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অর্থের বিনিময়ে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিমের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার সকাল থেকে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে কাজল রেখাকে এক মৎস্য ব্যবসায়ীর উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘রহিম ভাই, শোনেন, একটা প্যাঁচ দিয়ে থুইয়া গেছেন। আমি না পারি অভিযান করতে। আমার ওপর থেকে চাপ আসতেছে। বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠাই দিয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন জ্বালাই দিমু।’
জবাবে রহিমকে বলতে শোনা যায়, ‘যা করেন করেন, ফরটি ফাইভ দিছি। এর মধ্যে যেভাবে হোক আপনি আমাকে সেভ কইরেন।’
এরপর কাজল রেখাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমারে তো চা খাওয়ার জন্যেও দেন নাই। চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম।’
উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন প্রিন্স অডিও রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই হলো গরিবের পেটে লাথি মারার অবরোধ, সবকিছু ভাগবাটোয়ারার খেলা।’
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে মাছ ধরার দুই শতাধিক ট্রলারের প্রতিটি থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার অঘোষিত অনুমোদন দেওয়া হতো। পরে সংগৃহীত অর্থ তিন ভাগ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দিতেন অডিওতে কথোপকথনে থাকা মৎস্য ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিমের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা বলেন, এটি অনেক আগের রেকর্ড। এরপর তিনি অফিসে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনও বিষয়টি শোনার কথা জানিয়ে বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
